পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারি বীরযোদ্ধা মণীষ দেওয়ান এবং শামসুদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে পাহাড়ে সক্রিয় ছাত্রসংগঠনসমূহের জোট ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক সুনীল কান্তি দে’কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে রাঙামাটি মুক্ত দিবস পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন।
দিনটি উপলক্ষ্যে ১৭ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজন করা হয় প্রদর্শনী বিতর্ক,আলোচনা সভা,সম্মাননা প্রদান এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচী।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ফজলে এলাহীর সভাপতিত্বে এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিবেট ফেডারেশন’র সংগঠক তুষার ধর। বিতার্কিক আনিকা তাবাসসুম এর সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মঈনউদ্দিন,সম্মাননা পাওয়া অতিথি মণীষ দেওয়ান ও সুনীল কান্তি দে,রাঙামাটি রোটার্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি অলি আহাদ,কালেরকন্ঠ শুভ সংঘ’র সভাপতি অসীশ দাশ গুপ্ত,তরুন ব্যবসায়ি মাসুদ রানা। অসুস্থতার কারণে আরেক পতাকা উত্তোলনকারি সামশুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকতে না পারায় তার পক্ষে স্মারক গ্রহণ করেন তারই সহযোদ্ধা ও পতাকা উত্তোলন সঙ্গী মণীষ দেওয়ান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও পাহাড়ের প্রবীন সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, আজ যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির উৎসব চারপাশে,যখন রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশিত হয়,যখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার দুর্বিসহ কঠিন জীবন যাপন করছে,সেই দু:সময়েও ডিবেট ফেডারেশন এর এই উদ্যোগ দারুন প্রশংসার দাবিদার। আমি নতুন প্রজন্মের এই দায়িত্বশীলতা,দেশাত্মবোধ এবং অসাধারণ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ প্রবীন এই সংবাদকর্মী আরো বলেন, যার যা প্রাপ্য সম্মান,তাকে সেটা দিতে হবে এবং তবেই একটি দেশে গুণীরা কদর পাবে,দেশ এগিয়ে যাবে।’
মণীষ দেওয়ান বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও দলান্ধ রাজনীতি যখন আমাদের চেতনা ও বিশ্বাসকে অন্ধ করে দিচ্ছে,দেশপ্রেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে,সেই সময় পাহাড়ের বিতর্কপ্রিয় তরুণদের এইসব ছোট্ট ছোট্ট উদ্যোগ আমাকে আশাবাদী করে। আমি বিশ্বাস করি,এইসব তরুণদের হাত ধরেই বদলে যাবে এই জনপদ,পুরো দেশ।’ সাবেক সেনা কর্মকর্তা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃতির অপপ্রয়াস ও অপচেষ্টা অব্যাহত ছিলো এবং এখনো আছে। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই,রাঙামাটি মুক্ত দিবস ১৭ ডিসেম্বর,সেদিনই এই জেলায় আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলাম।এনিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই,মিথ্যাচার করেও লাভ নেই। ইতিহাস সাক্ষী।’
রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মঈনউদ্দিন বলেন, ‘ আমি খুব গর্ব অনুভব করছি যে, এমন দারুন একটি আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারছি। আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঠিক বাস্তবায়ন, সবাই নৈতিকভাবে উন্নত চরিত্রের অধিকারি হয়ে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হতে পারলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন অবাস্তবায়িত থাকতে পারেনা।’ এই শিক্ষাবিদ আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে,তাতে নতুন প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
সভাপতির বক্তব্যে ফজলে এলাহী বলেন, ‘ যে কাজটি দল মত নির্বিশেষে বহু বছর আগেই পার্বত্যবাসির কিংবা পার্বত্য রাঙামাটিবাসিরই করা উচিত ছিলো,সেই কাজটিই ছোট্ট আঙ্গিকে নিজেদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছে ডিবেট ফেডারেশন। আমার সামর্থ্য হয়তো কম,কিন্তু হৃদয়ের বিশালতা দিয়ে সেই ক্ষুদ্রতাকে আমরা বৃহৎ করার প্রানান্ত চেষ্টাই করেছি। তাই প্রিয় তিন অগ্রজ মণীষ দেওয়ান,শামসুদ্দিন আহমেদ এবং সুনীল কান্তি দে’র প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা। এখন থেকে প্রতিবছর ডিবেট ফেডারেশন এই দিনটি পালন করবে।’
আলোচনা সভা শেষে অতিথি,আলোচক এবং উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন এর সদস্যরা রাঙামাটি শহীদ মিনারের বেদীতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে রাঙামাটি মুক্ত করতে নিহত শহীদ ও বীরযোদ্ধাদের স্মরণ করে।
