সুহৃদ সুপান্থ
অবশেষে ‘বিরোধ’ ভুলে একসাথে বসে নিজেদের মধ্যে ‘সমঝোতা’ করে নিলেন রাঙামাটি দুই প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীরা। ‘কেউ কারো বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কিছু লিখবে না এবং সংবাদ পরিবেশন করবেনা’ এমন বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছান সাংবাদিক নেতারা।
একই সাথে নতুন হওয়া প্রেসক্লাবটি বিলুপ্ত করে দেয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত জানান তারা।
শুক্রবার বিকালে নতুন হওয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা ও সাধারন সম্পাদক নন্দন দেবনাথের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রিজার্ভবাজারে অবস্থিত রাঙামাটি প্রেসক্লাবে যান।

সেখানে দুইপক্ষই নিজেদের ভুল বুঝতে পারার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেনো না ঘটে,সেই বিষয়ে একমত হন।
বিলুপ্ত হতে যাওয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা বলেন-‘ সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে কাদাছোড়াছুড়ি এবং পাল্টাপাল্টি নানান পদক্ষেপে জেলার সাংবাদিকদের মানসম্মান হানি হচ্ছিলো। তাছাড়া যে উদ্দেশ্যে নতুন আরেকটি ‘রাঙামাটি প্রেসক্লাব’ গঠন করা হয়েছিলো,সেটিও দৃশ্যত সফল হয়েছে। কারণ প্রেসক্লাব ইতোমধ্যেই সদস্য অন্তর্ভূক্তি শুরু করেছে এবং ১৬ জনকে সদস্যও করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সদস্য করা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আমরা সবাই হাসিমুখে নিজেদের মধ্যকার বিরোধ মিটিয়েছি। এটা আমাদের সবার জন্যই ভালো হয়েছে।’
সুশীল প্রসাদ চাকমা জানিয়েছেন,‘ সভায় আমরা জানিয়ে এসেছি, নতুন প্রেসক্লাব শীঘ্রই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হবে। কিছু প্রক্রিয়া শেষে দুয়েকদিনের মধ্যেই সেই ঘোষণাও দেয়া হবে।’

অন্যদিকে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার আল হক বলছেন-কারো সুপারিশ বা পরামর্শে নয়, আমরা নিজেদের উপলদ্ধি থেকেই নিজেরা নিজেরা বসে সমস্যা মিটিয়ে নিয়েছি। এখন থেকে আমরা সবাই একসাথে মিলে মিশে থাকব। প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়া একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া,সেটাও অব্যাহত থাকবে।’
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল জানিয়েছেন,‘আমরা স্পষ্ট সবাইকে বলে দিয়েছি কেউ যেনো কারো বিরুদ্ধে উল্টাপাল্টা কিছু না লিখে,কিছু না করে। যদি করে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব। আমরা চাই সকল সাংবাদিক মিলেমিশে থাকতে। আমাদের মধ্যে আর কোন বিরোধ নাই।’
রাঙামাটি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই সভায় দুই প্রেসক্লাবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাধারন সম্পাদক আনোয়ার আল হক, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী, অলি আহমেদ, ফজলুর রহমান রাজন, মনসুর আহমেদ, হিমেল চাকমা, শান্তিময় চাকমা, কামালউদ্দিন, ফাতেমা জান্নাত মুমুসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রাঙামাটি সংবাদকর্মীদের প্রথম প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি প্রেসক্লাব’র সদস্য হওয়া নিয়ে জেলার সাংবাদিকরা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে গত একবছরে প্রথমে ৬ জনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করে। পরে বিরোধের তীব্রতা বাড়লে নতুন প্রেসক্লাব থেকে আরো ৯ জনকে সদস্য করা হয়। এই ৯ জনকে সদস্য করার পর নতুন ক্লাবটি ছাড়েন আরো দুই সাংবাদিক মিল্টন বড়ুয়া এবং বিহারী চাকমা। ফলে অস্তিত্বে সংকটে পড়ে নতুন প্রেসক্লাব। এই সংকটকালেই ‘কিছু ঘটনা’য় সাংবাদিকদের বিরোধের তীব্রতা আরো বাড়লে সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুক্রবারের বৈঠকের মাধ্যমে ‘সমঝোতা’র প্রেক্ষিতে ‘পারষ্পরিক ভুল বোঝাবুঝি’র আপাতত অবসান ঘটল। নিজেরা পরষ্পরকে মিষ্টি খাইয়ে ‘নতুন দিনের’ই যেনো ইঙ্গিত দিলেন তারা।
