‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরোধপূর্ণ ভূমি’ বিরোধ নিষ্পত্তিতে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠকস্থল ঘেরাও করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। এদিন সকালে ঘেরাওয়ের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমাসহ কমিশন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হক এসে নাগরিক পরিষদের বাধার মুখে পড়েন।
এসময় কমিশন চেয়ারম্যান ঘেরাওকারিদের সাথে পৃথকভাবে কথা বলে তাদের দাবিদাওয়া সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া এবং দেশের সংবিধান ও আইনের বাইরে কিছু না করার ঘোষণা দিলে ঘেরাওকারিরা অবরোধ তুলে নিয়ে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দিকে চলে যায়। এর আগে নাগরিক পরিষদের অবরোধ ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সোলায়মান, মো. কাজী জালোয়া, মো. হাবিবুর রহমান, মো. শাহজাহান প্রমুখ।
এদিকে ভূমি কমিশনের বৈঠক চলাকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতারা কমিশন চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এসময় নাগরিক পরিষদ নেতারা তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি চেয়ারম্যানকে প্রদান করেন।
বাঙালি সংগঠনের আইন সংশোধনের দাবির বিষয়ে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেছি, তাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে আমার কাছে দিয়েছে। আমি সেগুলো সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠিয়ে দিব।’
পার্বত্য বাঙালিভিত্তিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সোলায়মান বলেন, ‘আমরা কমিশন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সঙ্গে দেখা করে আমাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে দিয়েছি। আমরা বলেছি আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত যাতে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া না হয়। যদি কমিশন আইন সংশোধন না করে কোনো সভা করতে চায় আমরা তা হতে দিব না।
তিনি বলেন, এই কমিশনের সবচেয়ে আপত্তিকর আইনের মধ্যে রয়েছে, বিরোধ নিষ্পত্তির পর কোনো আপিলের সুযোগ নেই। এখানে কেবলমাত্র বাঙালি নয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষও প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আপিলের সুযোগ ছিলো, এটা কী তার চেয়েও ভয়ংকর কোনো বিষয়, যেখানে আপিলের সুযোগ নেই- প্রশ্ন রাখেন সোলায়মান।
