রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নিরাপত্তাবাহিনীর ইউপিডিএফ আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২ টি একে ৪৭ রাইফেল উদ্ধার ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাকে অস্বীকার করে পুরো ঘটনাকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করছে পার্বত্য চুক্তিবিরোধী হিসেবে পরিচিত পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ’র প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন অংশটি।
শনিবার ভোররাতে বন্দুকযুদ্ধ এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার পর বিকেলে গনমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের পশ্চিম জারুলছড়িতে ‘সেনাবাহিনীর সাথে ইউপিডিএফের গোলাগুলি’ হয়েছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাকে ‘সর্বেব মিথ্যা ও বানোয়াট’ এবং ‘ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছে ইউপিডিএফ।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২১) এক বিবৃতিতে রাঙামাটি জেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক শান্তিদেব চাকমা , গোলাগুলি ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ উল্লেখ করে বলেন, ‘বঙ্গলতলির জারুলছড়িতে সেনাবাহিনীর সাথে ইউপিডিএফ কিংবা অন্য কারোর কোন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।’
‘ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে’ দাবি করে শান্তিদেব চাকমা আরো বলেন, ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিকভাবেই ইউপিডিএফ তার সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ইউপিডিএফের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে নস্যাত করতে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আর তারই অংশ হিসেবে খুন, গ্রেফতার, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও গোলাগুলির নাটক সাজানো হচ্ছে।’
ইউপিডিএফ নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কথিত ‘অস্ত্র উদ্ধার’ নাটক জনগণের উপর দমন-পীড়নের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এসব অবৈধ অস্ত্র গুঁজে দিয়ে যে কাউকে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে ও বিচার বহির্ভুত হত্যাসহ নানা জুলুম চালাচ্ছে। তিনি এসব অবৈধ অস্ত্রের অনুসন্ধান করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে শনিবার ভোররাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২ টি অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেল, ২ টি ম্যাগজিন,১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে আইনশৃংখলাবাহিনী ।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের পশ্চিম জারুলছড়ি এলাকায় প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র শাখার আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে এইসব উদ্ধার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের দায়িত্বে থাকা ১২ বীর ।
সেনা সূত্র বলছে, পশ্চিম জারুলছড়ি এলাকায় ১০-১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘাইহাট জোন কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান দল ওই স্থানে অভিযান চালায়, এসময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাবার উদ্যোগ নেয়। এসময় সেনাবাহিনীর আভিযানিক দল সন্ত্রাসীদের পিছু ধাওয়া করলে সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসী দলের মধ্যে বিপুল পরিমাণ গুলি বিনিময় হয় এবং সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে উক্ত স্থানে সেনাবাহিনী তল্লাশি চালিয়ে ২ টি একে-৪৭, ২ টি একে-৪৭’র ম্যাগজিন, ১৩ রাউন্ড এ্যামুনেশন, ২টি মোবাইল ও ৩টি কাপড়ের ব্যাগসহ বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করে।
