কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়া এলাকায় ইউপি মেম্বার ও পিতার পিটুনি খেয়ে মং মং প্রু মারমা (৩৫) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন, বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেধড়ক পিটুনি দিয়ে স্কুলের কক্ষে আটকে রাখার পর পড়নের শার্ট গলায় পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন মং মং, এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ । এঘটনায় কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাদকাসক্তির কারণে রাইখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কারিগর পাড়ার বাসিন্দা মং মং প্রু মারমার সাথে পরিবারের বিরোধ ছিলো। বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার সকালে কারিগর পাড়া বাজার এলাকায় তার পিতা মিরিক্ক্যা মারমা ছেলে মং মং প্রু মারমাকে। এসময় ইউপি সদস্য মংচিং মারমাও তাকে মারধর করেন।
মারধরের পর তাকে কারিগর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে গায়ের শার্ট গলায় পেচিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন মং। খবর পেয়ে দুপুরে স্কুলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার উপ পরিদর্শক আবদুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে পিতা ও ছেলের সাথে মতবিরোধ ছিল বলে জেনেছি। পিটুনিতে নাকি প্ররোচনায় সে আত্মহত্যা করেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে নানাভাবে চেষ্টা করেও অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মংচিং মারমা এবং আত্মহত্যা করা যুবকের পিতা মিরিক্ক্যা মারমার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে রাইখালি ইউপি চেয়ারম্যান ছায়া মং মারমা জানিয়েছেন,মংমং মারাত্মকভাবে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হওয়ায় পারিবারিকভাবে অশান্তি ছিলো এবং সে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলো। মঙ্গলবার সকালে তার পিতা সম্ভবত: তাকে শাসন করেছে। এর জের ধরে এটা হয়েছে কিনা আমরা জানিনা। তবে ইউপি সদস্য মংচিং এই ঘটনার সাথে কোনভাবে জড়িত নয় এবং সে এলাকায় ছিলোনা বলেই জেনেছি।