সাইফুল হাসান ॥
‘পাহাড়ের মানুষের খাদ্য অভ্যাসে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এখানে যে সকল খাদ্য অভ্যাস দেহের জন্য উপকার তা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের উচিত একটি সুনির্দিষ্ট খাদ্য তালিকা তৈরি করে প্রচার করা। এখানকার বসবাসকারী যেসকল জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের যেসব খাদ্যাভ্যাস সকলের জন্য ভালো তা গ্রহণ করে বাকি যেগুলো দেহের উপকারে আসে না তা বর্জন করতে হবে। আর এজন্য পাহাড়ে খাদ্য অভ্যাসে প্রান্তিক জনগোষ্টির পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতার দরকার’ বলে মন্তব্য করেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনগোষ্ঠীর পুষ্টির প্রতিশ্রুতি উন্নয়ন শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের পর্যটন কমপ্লেক্স’র সম্মেলন কক্ষে দুপুর পর্যন্ত চলে এই বৈঠক। পুষ্টি বিষয়ক এই বৈঠকের আয়োজন করেন লিন, ফাউন্ডার বাই দ্যা ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধূরী, সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা, চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. কাঞ্চন চাকমা, জাতীয় পুষ্টি পরিষদের উপ-পরিচালক ডা. নুসরাত জাহানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় এসময় আরও বলেন, আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে তার মানে যে আমাদের বলা হয় শাক সিদ্ধ না খেয়ে একটু তেল দিয়ে ভাজি করে খেতে কিন্তু এখানে সব শাক যে তেল দিয়ে খেলে শরীরের জন্য ভালো তাও কিন্তু না। তেল আমাদের শরীরের আরও কি কি ক্ষতি করে তাও আমাদের দেখতে হবে। সব শাকই তেল দিয়ে খেতে হবে এমনও তো নাও হতে পারে। তাই যেটা উপকারি সেটা নিবো এবং যেটা উপকারে আসে না তা বর্জন করবো। পার্বত্য চট্টগ্রামে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে আমাদের এখানে জিও এবং এনজিও উভয়ের কাজ করতে হবে। সব কাজেই সবাইকে সমন্বয় ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে।
চাকমা সার্কেল চিফ আরও বলেন, আমাদের বিহারের কিছু ভিক্ষুকের সংলাপে পাহাড়ের মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পশু পালন থেকে দূরে সরে এসেছে। এবিষয়ে আমি একমত না। আমরা রাজবন বিহান ভিক্ষুদের সাথে বসবো প্রয়োজনে আরও যারা আছে সবার সাথে বসে এ বিষয়ে আলোচনা করবো। আমাদের ধর্মে প্রাণী হত্যা মহা পাপ বলা হয় তাই অনেকে হাঁস, মুরগি ও গরু ছাগল পালন করতে চাই না। এটার মূল কারণ ভুল ব্যাখ্যা। তাই আমরা ভিক্ষুদের নিয়ে বসে পুষ্টিতে যেনো কেউ না ভোগে সে জন্য এই পশু পালনে ভুল ব্যাখ্যা না দিয়ে যেনো সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয় বিষয়ে নজর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
