ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সকাল।মন ছুটলে তাকে ধরা সরা বারণ!চায়ের মগে চুমুক।আর দে ছুট।অপরিচিত গন্ডিটা চিনে নিতে।অটো(ব্যাটারি চালিত বাহন) যোগাযোগের সহজ মাধ্যম এই এলাকায়।অটোয় চেপে টার্মিনাল।মূল শহর থেকে বাহিরে এই শহরের যাবতীয় দূর পাল্লার যাত্রার বাহনের কেন্দ্র।এখানে ঢাকা,চট্টগ্রামের গাড়ি যেমন পাওয়া যায় সহজে আছে আশেপাশে জেলা উপজেলাগুলোয় যাত্রার জন্য ছোট বাস,সিএনজি।গন্তব্য রামু।শহর কক্সবাজারের অন্যতম উপজেলা!জেলা শহর থেকে দূরত্ব ২৫কিমি।সেখান থেকে রামুর সাথে লাগোয়া উপশহর নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন লেক প্রধান গন্তব্য।মূলত বান্দরবান জেলার অন্তর্গত হলেও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা উপবন কৃত্রিম লেকটির শহর বান্দরবান থেকে দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিলোমিটার আর কক্সবাজার থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার।
রোদ বৃষ্টির আনাগোনা আর ভাবনায় বাউন্ডুলে ছুট!২৫টাকা ভাড়ায় নেমে গেলাম চৌমহনী স্টেশন।ছোট শহর।দিনেই ছুটতে হবে বিশেষ কিছু জায়গায়!রামু থেকে মিনিট দশেকের দূরত্বে নাইক্ষ্যংছড়ি লেক।উপবন লেক।এপাড়ায় রোদ জ্বলজ্বলে।উঁচু নিচু দুপাশে গাছের সারি পার হয়ে ছুটছে তিনচাকার যান।কর্মব্যস্ত চারপাশ।গ্রামীন আবহ স্পষ্ট। পাহাড় ঢিঙে গাড়ি উঠছে নির্জন প্রশান্তিতে।বেশ শান্ত এই অঞ্চল।
বিশ টাকার টিকেটে প্রবেশে ভেতরে।উঁচুতে উঠা পথটাই এবার নামতে হিবে ঢালু বেয়ে নিচে।চট করে মনে হতেই পারে টিকেট কেটে ঢুকলাম কই!কানে ভেসে আসে খালি গলায় লালনের সুর।বগুরার মাঝ বয়সী সাবেদ আলী সরকার তারে সুর তুলে গেয়ে যাচ্ছে আপন মনে।তপ্ত রোদে উষ্ণ অভ্যর্থনা এপাড়ায়!
মুগ্ধতা বাড়বে এগুতে এগুতে….শান বাধানো ইটের সিঁড়ি পেরুতে চোখে পড়বে গাছ বাড়ি।নিভৃত নির্জনে ছায়া মাখা ভালোবাসায় আপনাকে আগলে নিতেই প্রস্তুত।জল সবুজে ছায়া মাখা কাঠ বাড়ি।ডানে এগিয়ে নামলেই পেয়ে যাবেন লম্বা সিঁড়ি।পেরুলেই কাঠের লম্বা সেতু।ঝুলে আছে দুপাশের দঁড়িতে।মাথার উপর রৌদ্রজ্বলা আকাশ।চারপাশে সবুজ।সবুজের আভায় সবুজাভ লেকের জল।
সেতু পেরুলেই ওপাড়ে পাহাড়ি গ্রাম।দোকানে ব্যতিব্যস্ত কর্তা।বাসায় ব্যস্ত কর্তী।ছোট বাচ্চারা ছুটছে বিদ্যালয়ে।মাচাং বাড়ির উঠোনে চলছে দাদী নাতীর খুনসুটি।বুনো শুকর তপ্ত রোদে গায়ে জড়াচ্ছে কাদামাটি।পাহাড়ী জনপদে হারিয়ে যাবেন কিছুক্ষনের জন্য।এগুতে পারেন পাহাড়ী রাস্তা ধরেই আরো খানিকটা।সবুজে পাহাড়ে ডুবে থাকা।
সময় স্বল্পতায় উল্টোরথ।মধ্যদুপুরের কিশোরের দলের জমজমাট আড্ডা লেকের শান্ত জলে সেতুর উপর।তপ্ত রোদে পা ঝুলিয়ে জলে,অদ্ভুদ প্রশান্তি।এই ঝুলে থাকা কাঠের সেতুই এপাড় ওপাড় যোগাযোগের মাধ্যম।
বেলা বাড়ছে,উপরে উঠে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা যায় ওপাড়ের জল জীবনের ভাবনায়!কাঠের সিড়ি বেয়ে গাছবাড়িতে।বিশ্রাম নেয়া যাক।
চারপাশে সবুজ যেন গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে প্রশান্ত মনের চারণে।
যান্ত্রিক কোলাহল ছাড়িয়ে দূর নির্জনে কেটে যায় প্রশান্ত বেলা।নিজেস্বতায়।বেরিয়ে উপরে উঠলে ছোট্ট চায়ের দোকান।মাটির উনুনে জ্বলছে চায়ের কেটলি।সুবিধা হচ্ছে এদিকে কাঁচা সবজি কিনবা ফল যাই পান একদম তরতাজা!ভর দুপুরে চায়ের মগে চুমুক দিয়ে ছুট শুরু।পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে যেতে হবে নিচে।হাতের ডানে মূল নাইক্ষ্যংছড়ি।ওদিকে যাওয়া হবে অন্যবেলায়।এখন ফিরতে হবে।বামে এগুলেই লোকাল রিজার্ভ দুধরনেরই সিএনজি পেয়ে যাবেন।
হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি।যাওয়ার পথের শান্ত স্নিগ্ধ সড়ক হটাত যেন প্রমত্তা যৌবনা।গাছের সারির মাঝে ঝুম শ্রাবন।অদ্ভুদ তুমিহীনতা আকড়ে ধরবে চট করে….আর মুগ্ধতার রেশে মনেহবে,এই সুন্দরতা বুকে নিয়েই বেঁচে যাই আরো অনেকটা কাল……উপবন লেকে আছে মাছ ধরার সুবিধাও।টিকেট কাউন্টারেই কথা বলে নিতে হবে এই ব্যাপারে।
উপবন লেক,নাইক্ষ্যংছড়ি-
কিভাবে যাবেন-বান্দরবান জেলা অন্তর্গত এই উপজেলায় যেতে পারেন দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে কক্সবাজারের বাসে চেপে নেমে যাবেন লিংক রোডের রামু বাইপাস সড়কে।সেখান থেকেই লোকাল বা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে চৌমহনি স্টেশন।অথবা সরাসরি উপবন লেক অব্দি নিতে পারেন রিজার্ভ সিএনজি।ভাড়া পড়বে ২৫০/৩০০টাকা।সিএনজি সচরাচর পাহাড় অব্দি উঠেনা,বেশি ভাড়া গুনতে হতে পারে সেক্ষেত্রে।বান্দরবান শহর থেকে যেতে পারবেন চান্দের গাড়ি/সিএনজি চেপে।ফেরার পথে হেঁটেই নেমে আসতে হবে খানিকটা পথটা।বরং সেই ভালো,ফিরতে ফিরতে এই পথে পাহাড়ি বাঙালি জনগোষ্ঠীর নিজেস্ব মিশ্রিত জীবনাচারণ-সংস্কৃতির সমান্তরাল পথ চলা দেখতে দেখতেই ফেরা যাবে…..ঝুম বৃষ্টি কিনবা মৌন বিকেল উপবন লেকের জলহাওয়ায় হারিয়ে যাওয়াই যায়,প্রশান্তস্নানে…….
