রাঙামাটি শহরের বিজয় নগরে এক কক্ষের একটি ঘরে ভাড়ায় থাকেন রবিন চাকমা। রাঙামাটি সরকারি কলেজের বিএস.এস(পাশ) ৩য় বর্ষের এই ছাত্র শহরের এক প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন। কিন্তু করোনা সেই আয়ের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।
একই কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের আরেক ছাত্র মো: ফিরোজ আলম। শহরের রিজার্ভ বাজারে ভাড়ায় থাকা এই ছাত্রের একমাত্র আয়ের উৎস টিউশনি। নিজ বাসা রাজস্থলী হলেও লকডাউনে আটকে যাওয়ায় যেতে পারেননি বাসায়।
আনাস বিন নূর; কলেজটির বাংলা বিভাগের আরেক ছাত্র। কক্সবাজার থেকে পড়তে আসা এই ছাত্র শহরের কলেজ গেটের মোটেল জর্জে মেসে থাকেন। তারও একমাত্র আয়ের উৎস টিউশনি মার্চ মাস থেকে বন্ধ। এদিকে লকডাউনে পড়ে যেতে পারেনি বাসায়ও। রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা না হওয়ার কোনও ত্রাণও মিলছে না।
শুধু রবিন, ফিরোজ কিংবা আনাস নয়; করোনায় আক্রান্ত না হয়েও এমন দুর্বিষহ জীবন পার করছেন তাদের মতো আরও অনেকে। আর তাদের এসব দুর্বিষহ অবস্থার কথা মাথায় রেখে এবার নিজ ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাড়িয়েছে রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষকরা।
কলেজটির অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মঈন উদ্দীনের সাথে কথা বলে জানা গেল, প্রথমে সব শিক্ষকদের কাছে তহবিল গঠনের আহŸান করেন তিনি। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে ধীরে ধীরে শিক্ষকদের সহায়তায় গড়ে উঠে তহবিল।
অধ্যক্ষ প্রতিবেদককে বলেন,“ আমাদের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে যে তহবিল গঠিত হয়েছে; তার থেকে এ পর্যন্ত আমরা ৭০ জনের অধিক ছাত্রকে নিত্য-পণ্য জিনিস প্রদান করেছি। আগামীতেও এ উদ্যোগ আমরা চালিয়ে যাবো।”
বিদ্যা সমবায় করে পেট চালানো মো: ফিরোজ ও আনাস স্বস্তির সুরে প্রতিবেদককে বলেন.“ সকালে ফোন পেয়েছি কলেজ থেকে। স্যাররা কলেজে আসতে বলে। পরে কলেজে গেলে, স্যারদের কাছে থেকে চাল-ডাল-তেল সহ নিত্য পণ্য জিনিস উপহার পায়।”
করোনার এই সংকট কালীন পরিস্থিতিতে স্যারদের এমন উদ্যোগ সত্যিই আমাদের আশান্বিত ও গর্বিত করেছে।- যোগ করেন দুজনেই।
