নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি ॥
নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারি হাজি এম এ কালাম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রীকে অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে থানায়। মামলায় চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এরা হলো- কচ্ছপিয়ার নতুন মিয়াজি পাড়ার হাজি গফুরের ছেলে তামিম(১৯), ইসমাইলের ছেলে রিপন (২০) খুরশেদের ছেলে মো: নবী (১৮) ও মৌলভী কাটার শামূল আলম (২১)। আটক চারজনকে বুধবার সকালে বান্দরবান আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হাশেম প্রকাশ কালু মিয়া জানান, মঙ্গলবার কলেজ ছুটির পর ২টার দিকে নিজ ঘর থেকে পাশের দোকানে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের পূর্ববিছামার নুুুরুল হাকিমের ইন্টার সেকেন্ট ইয়ারের পড়–য়া কলেজ ড্রেজ পড়া ছাত্রি তাসনিম আক্তার (১৭) চিৎকার দিচ্ছিলেন বাঁচাও বাচাঁও বলে। শুনে কালু এগিয়ে আসেন। ছাত্রীকে টানা হেছড়া করছিলো এ যুবক। তার হাতে তখন ছুরি। তবু তিনি এগিয়ে গিয়ে ছাত্রিকে বাচাতে চেষ্টা করেন। ঐ ছাত্রী ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন টমটম গাড়ি যোগে। এ সময় পার্শ্ববর্তী কচ্ছপিয়ার নতুন মিয়াজি পাড়ার হাজি আবদুল গফুর মিয়াজির ছেলে তামিম মিয়াজির নেতৃতে ৩/৪ জন যুবক তার পিছু নেয়। তারাও অপর একটি টমটমে করে তাসনিমকে তাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্রিটি তার নিজ গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়ে এক প্রতিবেশির বাড়িতে যায়। বাড়ির দরজায় তালামারা দেখে দৌঁড়ে অপর বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাওয়ায় পথে বখাটে তামিম মিয়াজি তাকে ঝাপড়ে ধরে টেনে নিয়ে আসে। শুরু হয় আর্তনাদ আর চিৎকার।
কালুু মিয়া আরো জানান, চিৎকার শুনে সে নিজেও এগিয়ে আসে। উদ্ধার করে মেয়েটিকে। তাকে ধৃত করে ফেলে সে। কিন্তু বিধি বাম। এরই মাঝে তার অপেক্ষামান বন্ধুদের ফোনের কারণে আরো ২০/২২ জন বখাটে যুবক রাম দা, বল্লম, ছুরি সহ চলে আসে গয়াল খামারের এ এলাকায়। সৃষ্টি হয় একক অরাজকতার। পুরো গ্রামে তখন আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা তাকে মারতে দৌড়াতে থাকে। যেন ফিল্মস্টাইল। অল্পের জন্যে সে বেঁচে যায়। গ্রামবাসী এগিয়ে আসে। মেয়েটি এবং কালু উদ্ধার হয়।
আসামি তামিম জানান, তারা বখাটে বা কিশোর গ্যাং সদস্য নয়। মূলত তাসনিম আক্তার তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা। মঙ্গলবার সকালও তাসনিম তার মায়ের সাথে তামিম কথা বলে। এরই মধ্যে কলেজ ছুটির পর তাসনিম অন্য পুরুষের সাথে পর্যটন লেকে ডেটিং করার দৃশ্য তার মাথা ঘুরে যায়। তামিম বলে, তারা নিরপরাধ।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আলমগীর হোসেন বুধবার দুপুরে এ প্রতিবেদককে জানান, থানায় আটক ৪ জন সহ ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। বাকী অজ্ঞাতনামাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এছাড়া বেআইনী কর্মকান্ডে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কেননা এ ধরণের কাজ সমাজকে কলুষিত করে।
