রাঙামাটিতে সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পাহাড়ধস সর্ম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আগাম সর্তকতামূলক কার্যক্রম সম্পর্কিত এক কর্মশালার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী, সচিব,
রাঙামাটির স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় পাহাড়ধসের প্রতিরোধ ও দুর্যোগ মোকাবেলার বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সুপারিশের কথা উঠে এসেছে। পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম পাঠকদের জন্য তা খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক প্রান্ত রনি।
কর্মশালায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, রাঙ্গামাটি ব্যাপক ভূসিধস প্রবণ এলাকা, এখানে দুর্ঘটনার শঙ্কা বেশি। তাই পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী সকলকে অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। গত বছর ৩০০ এর কাছাকাছি মানুষ বজ্রপাতে মারা গেছে, আমাদের সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কেউ এমন আগাম প্রস্তুতি নেয়নি, সেটা কেবল আমরা নিয়েছি। এছাড়া সরকার দুর্যোগ প্রতিরোধ বিষয়ে নানান পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।
মন্ত্রী দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে রাঙ্গামাটি জেলায় ৩০০ মেট্রক টন চাল, ৫ লক্ষ টাকা জি আর ক্যাশ, ৫০০ বান্ডেল টিন ও ১৫ লক্ষ টাকা ঘরবাড়ি করার জন্য বরাদ্দ দেন।
কর্মশালায় সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, গত বছরে পাহাড়ধসের সময় প্রত্যেকটি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে আমরা রেকর্ড সময়ে কাজ করতে পেরেছি। আমাদের বনায়নের ওপর গুরুত্বরোপ করতে হবে। মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের সাথে এখানকার বনায়নও বাধা সুষ্টি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে নেতিবাচক দিক বাহিত হচ্ছে । এ সরকারের আন্তরিকতার সদিচ্ছা কে অনেকেই দুর্বলতা মনে করে। বনায়ন না করলে পারলে পাহাড়ধস হবেই। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সবাইবে উদ্বুদ্ধ করা। জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাপনে স্থিতি করতে না পারলে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্ন্য়ন ব্যাহত হবে। পার্বত্য চট্টড়্রাম থেকে যদি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না যায় তবে প্রতি পদে পদে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ শুরু হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, এখানে সামান্য বৃষ্টি হলেও বন্যা হয়। কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা সংকটে ড্রেজিং করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও বৃক্ষ নিধন থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। প্রকৃতিকে উচ্ছেদ করলে প্রকৃতিও প্রতিঘাত করবেই।
রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার গোলাম ফারুক বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময়ের মতো প্রস্তুত আছে দুর্যোগ মোকাবেলায়। আগে থেকে আমরা এখন আরো সুসংগঠিত। গত বছরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধার ব্যাহত হয়েছে। এবছর যদি পাহাড়ধনের ঝুঁকি হিসেবে তা আরো শ্রীঘ্রই করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য মন্ত্রী মহোদয়কে বলেছি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মোহসীন বলেন, রাঙামাটি পুরো জেলাই পাহাড়ধসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পুরো এলাকাকে আমাদের একটা আওতায় আনতে হবে। আমরা রাঙামাটির ৩১টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবৈধ বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও বৃক্ষ নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে। মাটির ক্ষয়রোধে কাজ করতে হবে। কাপ্তাই হ্রেদের নাব্যতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এখন থেকে সরিয়ে আনতে হবে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জে লা পরিষদ গেল বছর কাজ করেছে। এবছর দুর্যোহ সৃষ্টি হলে জেলা পরিষেদ ঐক্যবদ্ধ ভাবে কা জ করবে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলে, পাহাড়ে যারা বসবাস করে তারাই কেবল নন, এখানকার প্রায় সরকারি স্থাপনা গুলোও এখন ঝুঁকিতে আছে। এবছর শহরে ১৭টি স্থান ঝুঁকিতে হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগ আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এবছর কোন এলাকায় কাদের আনা হবে সে বিষয়েও একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আরো সহযোগিতা পেলে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো।
এর আগে পাহাড়ধসের আগাম প্রস্তুতি হিসাবে গত শনিবার শহরের শিমুলতলী, ভেদভেদী নতুন পাড়া, মনতলা, যুব উন্নয়ন ও রাঙ্গাপানিসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করেন জেলা প্রশাসন
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পুরো জেলা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এবছর পাহাড়ধসের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসন।

১ Comment
কখন হয় কবে হয় অামারা জানতেই পারিনা