রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাংষ্কৃতিক ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে সোমবার পাহাড় ধস সম্পর্কিত আগাম সচেতনতা কর্মশালায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রি দিপংকর তালুকদার বলেছেন, পাহাড়কে রক্ষা করতে হলে সারাদেশের মতো পরিকল্পনা মাফিক এখানে উন্নয়ন করা যাবে না, এখানকার ভৌগলিক অবস্থা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে, অন্যথায় এমন বিপর্যায় পাহাড়ে ঘটবেই।
তিনি বলেন, ভুমিধসের অন্যতম প্রতিষেধক হচ্ছে বনায়ন, এখানে অপরিকল্পিত ভাবে নব উজাড়ের কারণে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাওয়াতে বৃষ্টির পানি সরাসরি মাটির ভেতরে প্রবেশ করে তাতেই বেলে মাটির তৈরি পাহাড় ধসে পরে। ন্যাড়া হবার আগে পাহাড়ে এমন বৃষ্টি অনেক হয়েছে কিন্তু এমন ভয়াবহ ধস আগে হয়নি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এখানে বনায়ন করতে গেলেও বাধা আসে, বনায়ন করা যাবেনা। আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বনায়নের জন্য ৩শ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলাম, কিন্তু ওনাদের ( আঞ্চলিক রাজনীতি) বাধার কারনে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, প্রকল্পটি অন্য এলাকায় চলে যায়, এতে কার লাভবান হলো আমি জানিনা, এমন বিরোধীতার কারণে আমারা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছি, বনায়নের ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। যেমনটা হয়েছিল মেডিকেল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সেই অভাগা জাতি, যারা শিক্ষার বিরোধীতা করি, উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য কারফিউ জারি করতে হয়। তবে নিন্দুকের মুখে চুন কালি দিয়ে বেশ ভাল ভাবে এগিয়ে চলছে এ দুটি প্রতিষ্ঠান।
দীপংকর তালুকদার আরও বলেন, ত্রানমন্ত্রির সাথে কথা হয়েছে, সারা দেশের মত এখানেও ক্ষতিগ্রস্তদের কিছু ঘর তৈরি করে দেয়া হবে, তবে আগের স্থানে দিলে আবারও আগের মত ধস হলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই প্রয়োজন নতুন জায়গার, আর জায়গার কথা এলেই আবার শুরু হবে নানা অভিযোগ, আসবে বাহির থেকে লোক এনে আমরা বসাচ্ছি, পার্বত্য চুক্তি লংঘন করছি, তাদের সাথে সরকার বিমাতা সুলভ আচরণ করছে, কাজেই এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের এগোতে হবে। এখানে কাজ করতে হলে সব মন্ত্রনালয় সমন্বয় করে করতে হবে অন্যথায় কাজ করা যাবেনা। আর এখানকার মানুষদেরও সচেতন হতে হবে, সবকিছু সরকার করতে পারবেনা।
পার্বত্য এলাকার সাম্প্রতিক অস্থিরতা প্রসংগে তিনি বলেন, আগে পাহাড়ের মানুষ হরতাল চিনতোনা,বুঝতোনা, এখন সারাদেশ থেকে হরতাল বিদায় নিয়েছে, কিন্তু পার্বত্যাঞ্চলে তা ভর করেছে, এর যৌক্তিক কারণও আছে, এটা মনুষ্য সৃষ্ট দৃর্যোগ। কিছুদিন আগে খাগড়াছড়িতে ৩নজকে অপহরণ করা হয়েছে তার প্রতিবাদে সোমবার ওখানে হরতাল পালিত হয়, অপহরণতো আর ফুলছিটিয়ে করা যায়না, অস্ত্র দিয়ে করতে হয়, আর এগুলো হলো অবৈধ অস্ত্র। বনায়ন করতে দিবেনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে দিবেন না, পাহাড়ে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিবেন, এটা আর পাহাড়ের মানুষ আর সহ্য করবেনা, এই মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগের মোকাবেলা করার জন্য পাহাড়ের মানুষ সরকারের কঠোর পদক্ষেপ চায়।

১ Comment
দীপঙ্কর নিজেইতো পাহাড়ে একটা দূর্যোগ। আগে তার মোকাবেলা করা জরুরী তারপর প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিহতের কোনো সুযোগ নেই কিন্তু দীপঙ্কর নামের দূর্যোগটিকে প্রতিহত, প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা উচিত।