কেন্দ্র ও জেলা থেকে ঘোষিত কর্মসূচি পালনে ব্যর্থতা, সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার শাখার কার্যকরী কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক দীপেন তালুকদার দীপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট সাউফুল ইসলাম পনির’র যৌথ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘২০১৫ সালের আগস্ট মাসের সম্মেলনের মাধ্যমে কাপ্তাই উপজেলার বিএনপির কমিটি গঠনের পর হইতে বর্তমান কমিটি কোনরূপ সভা, কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হওয়া, সমন্বয়হীনতা ও অন্ত:কোন্দলে লিপ্ত থাকিয়া দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ড পরিচালনার কারণে সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হওয়ায় বিগত ৬ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির জরুরী সভায় সিদ্ধান্তক্রমে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটি বাতিল করা হইলো।’
এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু জানান, ‘এর আগেও একবার কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির এই কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। গেলো দুই মাস আগে দল পরিচালনার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা মাধ্যমের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু, তারা নিজেরা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সংগঠনের কেন্দ্র ও জেলা ঘোষিত কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এহেন কার্যক্রম ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ড পরিচালনার কারণে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্তক্রমে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির কমিটি বাতিল করেছে।’
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মামুন বলেন, ‘জেলা বিএনপির সকল সিদ্ধান্ত মেনে নিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আর জেলা বিএনপি বুঝেশুনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি দল বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত। তিনি সরকারি দলের সাথে আঁতাত করে উপজেলা বিএনপিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে; সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তাই আমি মনে করি জেলা বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।’
তবে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, ‘কাপ্তাইয়ে কেন্দ্রিয় বিএনপি ঘোষিত সব কর্মসূচিই পালিত হয়েছে। আর দলীয় অন্তকোন্দলের যে সব কথা বলা হচ্ছে; সেগুলো জেলা বিএনপির নেতারাই সৃষ্টি করেছেন। যার প্রভাব পড়েছে উপজেলাগুলোতেও এবং জেলা বিএনপি মূলত এই দ্বন্দগুলো জিইয়ে রাখতে চায়। জেলা বিএনপি নেতারা এসব দ্বন্দ জিইয়ে রেখে নিজেরা পায়দা লুটছে। তারা ব্যক্তিগতভাবে এক অর্থনৈতিক ব্যাপারে জর্জরিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনপ্রতিনিধি হয়ে কখনোই দ্বন্দ্ব, অন্ত:কোন্দল চাই না। আর এ কার্যকরী কমিটি বাতিলের ইতিপূর্বে আমাদের জেলা বিএনপি কোনও ধরণের কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়নি। তারা নোটিশ দেওয়ার পর আমরা নোটিশের উত্তর দিতে না পারলে তারা তখন একটা ব্যবস্থা নিতো। আমি বলবো এটা মূলত তাদের রাজনৈতিক দৈনতা ও নিজের ইচ্ছা শক্তির বাস্তবায়ন।’
দিলদার বলেন, ‘জেলা বিএনপি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাজে যায়। কিন্তু সেখানে উপজেলা বিএনপিকেই জানানো হয় না। এতে তারাও তো দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করছেন। তারা মূলত দায়িত্বে থেকে দালালী ও সেচ্ছাচারিতা করছে, তাদের এমন হটকারী সিদ্ধান্ত কাপ্তাই উপজেলার মানুষ কখনোই মেনে নিবে না।’
