শ্যামল রুদ্র ,রামগড় ॥
খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড বল্টুরামটিলা এলকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য খুঁটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে জীবন্ত গাছ। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে রামগড় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পিডিবি)এর বিরুদ্ধে। বড় কোন দুর্ঘটনার ঘটে যাওয়ার ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। তবে আবাসিক প্রকৌশলী দাবি করছেন তিনি বিষয়টি জানতেন না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বল্টুরাম টিলার মসজিদের নিচের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে মুসলিম টিলা ও হকটিলা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গাছের সাথে বেঁধে বাড়ি এবং দোকানপাটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় বৈদ্যুতিক লাইনগুলো ঝুলে মাটিতে এসে পড়েছে। ঝড়, বৃষ্টি কিংবা বাতাসে তার ছিঁড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় অন্তত আড়াই হাজার মানুষের বসবাস।
স্থানীয় বাসিন্দা খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অহিদুর রহমান জানান, মুসিলম পাড়া থেকে হক টিলায় প্রায় ৫০-৬০টি গাছের সাথে বেঁধে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। গ্রামীণ সড়কের পাশে অবস্থিত গাছগুলো দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে থাকায় যেকোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মৌলভী গোলাপ মিয়া (৭৫)জানান, দীর্ঘ দিন ধরে এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। তার ঘরের টিনের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেয়া হয়েছে। যার ফলে গত বছর তার বাড়িতে আগুন লাগে। পিডিবিকে জানালেও তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি।
রামগড় পৌর ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক জানান, নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে পিডিবি। তারের কাছে থাকা গাছের ডাল দীর্ঘদিন কাটা হয়নি। সামান্য বাতাসেই ডালে আগুন ধরে যায়। তারগুলো খুব নিচে ঝুলে থাকায় গ্রামবাসী আতঙ্কে থাকে। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর এবং পিডিবিকে অনেকবার এবিষয়ে জানানো হয়েছে।
রামগড় পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড বল্টুরামটিলার কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন জানান, মুসলিম পাড়া থেকে হকটিলা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার প্রক্রিয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভুক্তভোগীরা অনেক আগে থেকে তাকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। বিষয়টি পিডিবি কতৃর্পক্ষকে অবহিত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জীবন্ত গাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তা স্বীকার করে রামগড় পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ জানান, কর্মস্থলে নতুন যোগদান করায় তিনি বিষয়টি জানতেন না। বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ১০০ -২০০ ফুট দূরত্বের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা উচিত নয়। খুব শীঘ্রই গাছ থেকে লাইনগুলো সরিয়ে নতুন বৈদ্যুতিক পিলারে সেগুলো স্থাপন করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন।
