খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে বাগন করেছিলেন খাগড়াছড়ির পানছড়ির ওবায়দুল হক। তিনি পানছড়ির ৩নং সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি। বছরের পর বছর তিলে তিলে গড়ে তোলা বাগানের আম গাছগুলোতে ফল এসেছে। ১০/১৫দিন পর হয়তো বিক্রি করতেন। কিন্তু নাহ! তা আর হলো না। ক্ষোভের বলি হলো গাছগুলো। রাতের মধ্যে দুর্বৃত্তদের দায়ের কোপে কাটা পড়েছে ওবায়দুল হকের ৩শতাধিক আম গাছ। এছাড়া ওই বাগানসহ পাশের একটি বাগানের কয়েক হাজার সেগুন গাছ ও শতাধিক কলা গাছও কেটে ফেলা হয়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার আলী চান পাড়া ও কালানাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় বাগান মালিকদের মাঝে। এই ঘটনার জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফকে দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি।
জানা যায়, পাঁচ বছর আগে সাড়ে সাত একর জায়গা নিয়ে সেগুন ও আম বাগান করেন ওবায়দুল হক। বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বাগান সাজান। বাগান দেখাশোনার জন্য সেখানে পাহাড়াদারের জন্য ঘর নির্মাণ করতে চাইলে স্থানীয় ইউপিডিএফ সমর্থক নীরু কার্বারি ও বাবল কার্বারি বাধা দেন। এই নিয়ে কয়েক বার শালিশ বৈঠকও হয়েছে।
ওবাদুল হক বলেন, আমাকে বাগানে না যাওয়ার জন্য নানা বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়ে আসছে। আবার বাগানে পাহারা না দেওয়ার জন্য জোর পূর্বক স্টাম্পে সই-স্বাক্ষর নিয়েছে। পরে আমি থানায় সাধারন ডায়েরি করি। কিন্তু আমার শেষ রক্ষা হলো না। সব কেটে নিয়ে গেছে।
এদিকে কালানাল-শনটিলা সড়কের পাশেই তিন বছর ধরে আম বাগান সাজিয়েছে মোটর সাইকেল চালক ইয়াছিন। একি দিন রাতে তার বাগানেরও দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়।
ইয়াছিন জানায়, জায়গাটি এলাকার যুথিনাথ ও চন্দ্রনাথ ত্রিপুরা থেকে কেনা। কিছুদিন ধরে তারা জায়গার আরো টাকা দাবি করছিল। তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। এনজিও ও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে সাজানো বাগানটি ছিল আমার একমাত্র ভরসা। এখন সব কিছুই শেষ হয়ে গেছে। দু’জনেই এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নিবে বলে জানায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পানছড়ি থানার অফিসার মোহাম্মদ দুলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি তবে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
