কোভিড ১৯ বা করোনায় পৃথিবীর বড় বড় শক্তিশালী দেশে চলছে মৃত্যুর মিছিল। করোনা মোকাবেলায় যেখানে গোটা পৃথিবী হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমাদের দেশে কিছু বেপোয়ারা মানুষের কাছে করোনা খুব একটা বড় বিষয় নয়! এদের বেপোয়ারা চলাচলের জন্য আরো জটিল হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি এবং করোনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে অনেক গুন।
সরকার খুব বেশী জরুরী প্রয়োজন না হলে বাসা থেকে বের হতে নিষেধ করেছে। অনেকে এমন বিধিনিষেধ মেনে চলছে অবশ্য অাছে ভিন্ন চিত্রও কেউ কারনে কেউবা অকারনে অযথা বাড়ি থেকে বের হয়। বের হওয়া অধিকাংশ মানুষেরই কোন যৌক্তিক কারন নাই। তারপরও এসব বেপোয়ারা মানুষ বের হয়, পথে কোন বাধার সম্মুখীন হলে দেয় নানা ধরনের অজুহাত যার অধিকাংশই মিথ্যা। এমন অযথা ঘুরাঘুড়ি করোনায় ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে রাঙামাটিতে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার ও শনিবার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। দিনের বেলায় নানা অজুহাতে বাজারে বা বাড়ির বাহিরে যায় অনেকে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় খোলা আছে চায়ের দোকান বাহির থেকে বন্ধ দেখালেও ভিতর থেকে চলে চা বিক্রী। এসব দোকানের গ্রাহকও কম নয়। সন্ধ্যা ছয়টার পর বাড়ি থেকে বের হওয়া সম্পুর্ন নিষেধ হলেও বিভিন্ন পাড়ার মোড়ে মোড়ে দেখা মেলে আড্ডার। পুলিশ আসলে পালিয়ে যায়, পুলিশ চলে গেলে আবার ফিরে আসে আড্ডায়।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তবলছড়ি বাজারে নিজের স্ত্রী সহ মোটর সাইকেলে দেখা মিলে বদিউল আলমের সাথে। তার কাছে বের হবার কারন জানতে চাইলে তিনি প্রেসক্রিপশন বের করে বলেন ডা: দেখিয়ে আসতেছি, আমার স্ত্রী অসুস্থ।’ অবশ্য ভাবার কোন কারন নাই যে সবাই বদিউল আলমের মত প্রয়োজনেই বের হয়।
শুক্রবার বিকালে তবলছড়ি আবিদ ও খায়ের দুজনে মোবাইল হাতে নিয়ে বসে আছে, তাদের কাছে বের হবার কারণ জানতে চাইলে একটাই উত্তর-‘ বিকাল বেলা একটু বের হলাম আবার চলে যাব।’
তবলছড়িতে সন্ধ্যায় মসজিদের সামনে মাথায় টুপি দিয়ে যাচ্ছেন আশরাফুল, তার কাছে কেন বের হয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, মসজিদে নামাজ পড়লাম, এখন বাসায় যাচ্ছি।’ নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ জনের বেশী নামাজ পড়ার নিয়ম নাই তো কিভাবে পড়লেন? আশরাফুলের উত্তর- ‘মসজিদের ভিতরে পাঁচজন থাকে আমরা বারান্দায় নামাজ পড়েছি। মসজিদে নামায পড়লে শান্তি পাই তাই পড়তে আসছি।’
রাজবাড়ি এলাকায় মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেলের পিছনে দাঁড়িয়ে আড্ডায় ব্যস্ত কয়েকজন যুবক। কেন জানতে চাইলে বলেন- বাসায় ভালো লাগে না, তাই বের হয়েছি।’
বনরূপা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছে রবিন, পুলিশের গাড়ি দেখার সাথে সাথে ফার্মেসির সামনে দাঁড়িয়ে গেল, ভাবখানা যেন ওষুধ কিনবে, পুলিশ চলে যাবার পর আবার আগের জায়গায় আসলে, তাকে জিজ্ঞাো করা হলো ওষুধ নিলেন না কেন? তার সরল উক্তি- ভাই, পুলিশ দেখে দাঁড়াইছি।’
রাত আটটায় তবলছড়ির অফিসার্স কলোনীর মুখে দেখা যায় সুজন নামে এক সিএনজি চালকের। তার কাছে জানতে চাইলে -‘সহজ উত্তর, রাতের ভাত খাইছি এখন একটু হাঁটাহাঁটি না করলে কেমনে হয় বলেন? হজম হবার জন্য হাঁটছি।
বনরূপার ফুটপাতে হাঁটতে দেখা যায় আব্দুল হাকিমকে, তিনি কেন বের হয়েছেন, জানতে চাইলে বলেন,‘ কি করব কাজ আছে তাই বের হয়েছি’, কি কাজ জানতে চাইলে তিনি বলেন- ব্যাংকে যাচ্ছি টাকা তোলার জন্য।’ তখন তাকে শনিবারে কোন ব্যাংক খোলা আছে কিনা জানতে চাইলে -‘ হাসি দিয়ে চলে যায়।’
কাঠালতলীতে সিগারেট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন মান্নান, কেন দাঁড়িয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, না, চলে যাব একটু কাজ ছিল।’ কাজ আসলে তার কিছু নয়, হয়তো রাস্তায় সিগারেট খাওয়াটাই তার কাজ। 
অযথা বাহিরে বের হওয়াদের কাছে জানতে চাইলেই কোন না কোন কাজের অজুহাত দিবেই । তবে আসলেই অধিকাংশ মানুষের কোনটাই প্রয়োজনীয় কাজ নয়, শুধুই মনে চায় বলে বের হয়। এভাবেই হয়তো ঝুঁকি থেকে আরো ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলে দিবে রাঙামাটির মানুষকে। করোনার সাথে যুদ্ধটা অরো কঠিন করে তুলবে এই বেপোয়ারা মানুষগুলোই। এদের বোধোদয় কবে হবে কে জানে !
