খাগড়াছড়ি সদরের ‘আনন্দ’ অফিস সংলগ্ন এলাকায় কালভার্ট দখল করে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মান করায় শতাধিক পরিবারের দূর্ভোগ দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গোটা এলাকার ঘরবাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে থেমে থেমে বৃষ্টিতেই নাকাল এলাকাবাসী।
চেঙ্গীব্রিজস্থ আনসার ও ভিডিপি ক্যাম্পের পাশ দিয়ে গঞ্জপাড়া যাওয়ার পথে আনন্দ অফিসের পার্শবর্তী নতুন পাড়া গড়ে উঠেছে। ওই পাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বিল ও আশপাশের পানি নিস্কাশনের জন্য দীর্ঘকাল ধরেই একটি কালভার্ট ছিল। সেখান দিয়েই পানি গিয়ে চেঙ্গীনদীতে পড়তো।
গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য ছৈয়দ আলী জানান, জনৈক আনসার আলীর সদ্য তোলা বাড়ির কাছে কালভার্টটি দখল করে সেখানে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মান করায় পুরো বিলের পানি আটকে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান ও আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, ‘এতোদিন কালভার্টটি দিয়ে পানি গিয়ে নদীতে পড়তো। কিন্তু এরশাদ আলী নামক আনসার সদস্য সীমানা প্রাচীর তৈরি করায় এবছর বৃষ্টির পানি নিশকাশন হচ্ছেনা। এলাকার অন্তত একশ বাড়ি পানিবন্ধী হয়ে গেছে।’
খবর পেয়ে গত শনিবার গ্রামে ছুটে যান খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শানে আলম ও গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞানো রঞ্জন ত্রিপুরা। তারা এলাকা পরিদর্শনকালে গ্রামবাসী অবিলম্বে কালভার্টটি সচল করে দেওয়ার দাবী জানান। জনপ্রতিনিধিরা তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
অপরদিকে গোলাবাড়ি হেডম্যান পাড়ায় খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের পাশে একটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বহুতল ভবনের কারণে একটি কালভার্ট বন্ধ হয়ে গেছে। কালভার্টটি অচল হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম দিকের পাহাড়ের পানি প্রবাহ ব্যহত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি এখন এলোমেলোভাবে প্রবাহিত হওয়ায় মহালছড়ি সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা অভিযোগ করেছেন, জনৈক মংথুই মারমা কোন ধরণের নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে সড়ক বিভাগের দীর্ঘদিনের কালভার্টটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগও করা হয়েছে।
