কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥
কয়েকদিন আগেও রোগী বলতেই ছিল না। কিন্তু দু’য়েকদিনের ব্যবধানে ভাইরাস জনিত কারণে কাপ্তাই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ায় ভাইরাস জনিত কারণে মানুষজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ নানা অসুখের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে কাপ্তাইয়ে। বর্তমানে রোগীর চাপ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা অনেক রোগীকে ফ্লোরে শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, বর্তমানে করোনা রোগীর চাপ কমলেও আবহাওয়া জনিত কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
বৃহস্পতিবার কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউমোনিয়াজনিত কারণে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা বেশি। শিশু জুবায়ের মা জাহনারা বেগম জানান, হঠাৎ শিশু জুবায়েরের গত দু’দিন আগে থেকে জ্বর সর্দি কাশি বেড়ে যাওয়ায় তাকে বড়ইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তার নিউমোনিয়ার উপসর্গ থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অনেকটা সুস্থ হয়েছে।
এছাড়া, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বাসিন্দাকে জ্বর সর্দি ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা গেছে।
কাপ্তাই স্বাস্থ্য বিভাগের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও করোনার ফোকাল পার্সন ডা. ওমর ফারুক রনি জানান, কাপ্তাইয়ে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমলেও বিভিন্ন মৌসুমী রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সের ব্যাক্তিরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া জনিত কারণে শিশুরা বেশি ভর্তি হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে হাসাপাতালে অভ্যন্তরীণ বিভাগের শয্যাগুলোতে রোগীদের চাপ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ফ্লোরে ভ্রাম্যমান শয্যা করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে কিছু আসবাবপত্র সংকট থাকার ফলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো গেলে এই সমস্যা আর থাকবে না। এছাড়া কাপ্তাইবাসীকে আবারো যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক।
