রাঙামাটির প্রভাবশালী সংগঠন রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমবায় সমিতি লিমিটেে ১০ম ব্যবস্থাপনা পরিষদ নির্বাচন আজ। ব্যতিক্রমি কিছু সিদ্ধান্ত,পোস্টারবিহীন প্রথম নির্বাচন, নির্বাচনে আচরণবিধি প্রণয়ন করে প্রার্থীদের তা মানতে সম্মত করার কিছু সুষ্ঠু উদ্যোগের কারণে এবারের নির্বাচনটি বেশ আলোচনায় ছিলো। মডেল নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি নামের একটি সক্রিয় উদ্যোগের কারণেই নির্বাচনটি শেষাবধি সুন্দর নির্বাচনের উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।
প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে এ যাবত বেশ পরিচ্ছন্নভাবেই প্রচারণা শেষ হয়েছে। আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। ব্যবস্থাপনা পরিষদের ১২ টি পদের জন্য এবারের নির্বাচনে লড়ছেন ২৯ প্রার্থী।
সভাপতি পদে গত দুইবারের সভাপতি হাজী মোঃ সোলাইমান চৌধুরীর প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন এবারো। তার সাথে লড়ছেন মতিয়ার রহমান মতিন ও আনোয়ার মিয়া ভানু। এই পদে বরাবরই শক্তিশালি প্রার্থী সোলায়মান চৌধুরী এবারো নিজের দলীয় পরিচয়,পারিবারিক পরিচয় এবং বিশাল কর্মী বাহিনীর সমর্থনে উৎরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে গত দুইবারের চেয়ে এবার তার জয়ী হওয়াটা কিছুটা হলেও কঠিন হবে। শেষ দিনও নীরব থাকা ভোটারদের একটি বড় অংশ,নানা কারণে তার উপর অসন্তুষ্ট এবং তারা ভিন্নধর্মী কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে বাতাসে। সেই ক্ষেত্রে আনোয়ার মিয়া ভানুর সম্ভাবনার কথাও বলছেন কেউ কেউ। সোলায়মান আর ভানু দ্বৈরথে মতিয়ার রহমানও আছেন আলোচনায়। চন্দনাইশের ভোটারদের মতিগতির উপর নির্ভর করবে সোলাইমান চৌধুরী ও আনোয়ার মিয়া ভানুর ভাগ্য। আর দুই চন্দনাইশের কাটাকাটিতে সম্ভাবনার দূয়ার খুললেও খুলতে পারে মতিয়ার রহমানের। তবে শেষাবধি সোলাইমান-ভানু আর মতিয়ার কে হবেন এই ভোটযুদ্ধের প্রধান বিজয়ী সেনাপতি সেটা এখনই বলা বেশ কঠিনই বটে।
সহসভাপতি পদে দুই প্রার্থী আজম খান চৌধুরী আর আনোয়ার খান। দুই খানের লড়াইয়ে অভিজ্ঞতা,যোগ্যতা আর পরিচিতির মানদন্ডে এগিয়ে আছেন আনোয়ার খান। ভোটারদের বিশ্লেষনও তাই।
সাধারন সম্পাদক পদে হাজী আবু তাহের, আবুল হাসেম আবু আর মোঃ শহীদউল্লাহ’র লড়াইয়ে স্পষ্ট:ত এগিয়ে থাকা প্রার্থী আবুল হাসেম আবু। চুপচাপ ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত এবং সজ্জন ব্যবসায়ি আবুল হাসেম আবুর সাথে লড়াইটা হবে আরেক সজ্জন ব্যবসায়ি শহীদুল্লাহ’র। এই পদে হাজী আবু তাহের হালে পানি পাবেন না। এখানে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে আপাতত: এগিয়ে আছেন আবুল হাসেম আবুই।
সহ সাধারন সম্পাদক পদের দুই প্রার্থী নুরুল আলম নুরু এবং হেলালউদ্দিন। এই পদে লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। রিজার্ভবাজার ব্যবসায়ি সমিতির সাধারন সম্পাদক,রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক প্যানেল,বর্তমান কাউন্সিলর ও নির্বাচনে ভাগ্যবান হিসেবে বিবেচিত উজ্জ্বল ভাবমূর্তির হেলালউদ্দিন এপদে বেশ শক্ত প্রার্থী। নুরুল আলম নুরুও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ি ও ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত। এই দুজনের শেষ লড়াইয়ে বিজয়ের পাল্লাটা হেলালের দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে। নুরুর জয়ী হওয়াটাও বিচিত্র হবেনা।
অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক পদে দুই প্রার্থী বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ও শহীদুল্লাহ কাজল। এদের দুজনের মধ্যে কাজল পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে এবং ব্যবসায়ি হিসেবে কোন দুর্নাম না থাকায় ভোটারদের সহানুভূতি ও ভালোবাসা পাবেন। এই পদে একাধিকবার দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার সাফল্য হিসেবে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তারই বেশি,এমনটাই জানালেন ভোটাররা। তবে ছেড়ে কথা কইবেন না বখতিয়ারও উদ্দিন চৌধুরীও। তারও রয়েছে বেশ কিছু ভোট। ফলে তার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায়না। 
সেবা ও উন্নয়ন সম্পাদক পদের চার প্রার্থী মোজাম্মেল হক ,কাজী মো: মনসুর,লোকমান হাকিম হীরা এবং শামীম আহমেদ। এদের চতুর্মুখী লড়াইয়ে বিজয়ী হতে পারেন যে কেউই। তবে ভোটারদের সাথে কথা বলে দেখা গেছে সম্ভাবনার দৌড়ে এগিয়ে আছেন শামীম আহমেদ। চুপচাপ শামীমকে অতীতেও সবসময় সংগঠনের কাজে বা প্রয়োজনে সবার আগে পাওয়া যায়, এমনটাই জানালেন ভোটারদের অনেকেই। বাকী তিন প্রার্থী বিপুল অর্থ বৈভবের মালিক হওয়ায় সংগঠনের কাজে আদৌ তাদের পাওয়া যাবে কিনা এনিয়ে সংশয়ের কথা জানালেন কেউ কেউ।
তথ্য ও প্রচার সম্পাদক পদে লড়ছেন তরুন দুই প্রার্থী জহির আলম ও নুরুল ইসলাম। এদের মধ্যে জিততে পারেন যে কেউই। দলীয় পরিচিতি আছে সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় জহিরের,আবার কাঠালতলীর বাসিন্দা নুরুল ইসলামও পাবেন বাড়তি সুবিধা। এই পদে জিততে পারেন দুজনের যেকেউই।
দপ্তর সম্পাদক পদে লড়ছেন আব্দুল মোনাফও জাহেদুল ইসলাম তালুকদার। এদের দুজনের মধ্যে এগিয়ে আছেন আব্দুল মোনাফ।
কার্যকরি কমিটির ৫ সদস্য টি পদের জন্য লড়ছেন ৯ প্রার্থী। অর্পন সাহা,মো: আলমগীর,ইকবাল আহমেদ,দীলিপ কান্তি পাল,মোঃ নাজিমউদ্দিন,নুর হোসেন রানা, মোঃ বাবুুল,মোজাহেরুল ইসলাম ওয়াসিম, মো: হানিফ তালুকদার। এই নয়জনের মধ্যে কোন চারজন বিজয়ী হবেন, এমন প্রশ্ন করা হয়েছে অন্তত: ২০ জন ভোটারের কাছে। তাদের তথ্য ও বক্তব্য অনুসারে এগিয়ে আছেন অর্পন সাহা,মোঃ আলমগীর,দীলিপ কান্তি পাল,মোঃ নাজিমউদ্দিন ও ইকবাল আহমেদ।
আচরনবিধি মানেননি ৫ প্রার্থী !
এবারের রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমবায় সমিতির দশম ব্যবস্থাপনা পরিষদ নির্বাচনটিকে যখন সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে,সেই সময়ও নির্বাচনের আচরণ বিধি ভেঙ্গেছেন কয়েকজন প্রার্থী। রঙিন ব্যানার ঝোলানো,দেয়ালে,গেটে পোস্টার বা স্টিকার লাগানো,অতিরিক্ত ব্যানার ফেস্টুন ছাপানোসহ বেশ কিছু সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে কজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এসব প্রার্থীদের কেউ মডেল নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটির অনুরোধে কিছু নির্বাচনী উপকরণ সরিয়ে নিলেও বেশিরভাগই শেষাবধি মানেননি বিধি। ফলে ভোটারদের মধ্যে এদের ব্যাপারে রয়েছে বেশ ক্ষোভও। ফেসবুকেও এনিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেকেই। একজন ভোটার লিখেছেন, যারা নির্বাচিত হওয়ার আগেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না,তারা নির্বাচিত হলে কি করতে পারে, সেটা আমরা ভোটাররাও বেশ বুঝতে পারছি, এদের বয়কট করুন,প্রত্যাখ্যান করুন।’
যাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি না মানা অভিযোগ উঠেছে তারা হলেন, সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী হাজী মো: আবু তাহের,সমাজসেবা ও উন্নয়ন সম্পাদক পদের প্রার্থী লোকমান হাকিম হীরা,অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক পদের প্রার্থী বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক নুরুল ইসলাম,কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী নুর হোসেন রানা, মোঃ হানিফ তালুকদার। এরা কেউ কেউ মডেল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অনুসন্ধান টীমের অনুরোধে কিছু কিছু ব্যানার পোস্টার সরিয়ে নিয়েছেন জানালেও বাস্তবে খুব বেশি সরাননি। আবার অনুরোধ উপেক্ষা করে দোকানের সাটার,দেয়ালে স্টিকার ও বড় বড় পোস্টার লাগিয়েছেন,করেছেন রঙিন পোস্টার।
ভোটাররা সুস্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিলেন, যারা নির্বাচনের আগেই নিয়ম নীতি ভঙ্গ করেছেন এবং নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতা দেখিয়েছেন তাদের ভোট দেবেননা।
নির্বাচন বরাবরই বিস্ময়ের নাম। ভোটের আগ মুহুর্তের চিত্রও বদলে যায় মুুহুর্তেই। ফলাফল ঘোষণার আগ অবধি বোঝার সাধ্যি নাই কে বিজয়ী হবেন এই কঠিন লড়াইয়ে। রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমবায় সমিতির এই নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়। বিজয়ী হতে পারেন শেষাবধি সবচে পিছিয়ে থাকা প্রার্থীও। কে হাসবেন শেষ হাসি,আর কেইবা নেতৃত্ব দিবেন আগামী তিন দিনগুলোতে রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমবায় সমিতিকে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে শনিবার সন্ধ্যা অবধি,৪৩১ জন ভোটারের রায় গণণা শেষ না হওয়া অবধি।

১ Comment
এমন এক সমিতির নির্বাচন মুখ খুললে পেট বন্ধ থাকবে।