নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বিলাইছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বুধবার দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাঙামাটি জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ তপন কুমার পালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাঙামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাঙামাটি অঞ্চল কার্যালয়ের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো: নাসিম হায়দার, আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী, বিলাইছড়ি উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন, দেশে বিদেশে কফি ও কাজুবাদামের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ দুটি ফসলই উচ্চমূল্যের এবং রপ্তানিযোগ্য। পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশ কফি ও কাজুবাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই কফি ও কাজুবাদাম চাষের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কফি ও কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাত করার জন্য ইতিমধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এই এলাকার মানুষ অর্থনৈকিতভাবে বেশ লাভবান হবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ তপন কুমার পাল বলেন, পাহাড়ে সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের ফসল চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যন্ত পাহাড়ের দুর্গম এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পচনশীল কৃষি পণ্য যেমন আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেঁপে ইত্যাদি বাজারজাত করতে প্রতিবছর নানা অসুবিধা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে প্রত্যন্ত এলাকায় পাহাড়গুলোতে পরিকল্পিত কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন এ এলাকার কৃষকদের কফি ও কাজুবাদাম চাষ ও প্রক্রিজাতকরণ বিষয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ, উপকরণ সহায়তা প্রদান এবং সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করা গেলে অদুর ভবিষৎতে এ এলাকার উৎপাদিত কফি ও কাজুবাদাম দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণে উপজেলার তালিকাভুক্ত কাজুবাদাম ও কফি চাষে আগ্রহী কৃষক কৃষাণীদের কাজুবাদাম ও কফি চাষের বিভিন্ন বিষয় হাতে কলমে অবহিত করা হয়।
