সুহৃদ সুপান্থ/আরমান খান
তাদের দুজনের বাড়িতেই এখন ‘হঠাৎ ভেঙ্গে যাওয়া বিয়ের’ উৎসবমুখর বাড়ির ভুতুরে পরিবেশ যেনো। মাত্র তিনদিন আগেও যেখাবে ভোটের প্রচারনায় মুখর ছিলো তাদের ঘর,মন,জীবন,সেইখানেই এখন কবরের নিস্তব্দতা। বাবা এবং চাচার ‘দলীয় পদ বাঁচাতে’ নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে দলের প্রতীক নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য সমর্থকদের অনুরোধ জানাতে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেও,এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি,ভোটের মাঠ থেকে শেষাংশে সরে যাওয়া মাইনীমুখের এরশাদ সরকার ও গুলশাখালির রকিব হোসেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও সভাপতি বারেক সরকারের পুত্র,মাইনীমুখ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া এরশাদ সরকার বৃহস্পতিবার ফেসবুকে লিখেছেন ‘এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। আর নিজেকে সামলাতে পারতেছিনা। দলের স্বার্থে সবাই নৌকায় ভোট দিন। দীপংকর দাদার হাতকে শক্তিশালী করুন। সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন। দলের স্বার্থে আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার সকল নেতা কর্মী ভাইদেরকে অনুরোধ করতেছি, মান অভিমান ভুলে সবাই নৌকা ভোট দিন।’ এই স্ট্যাটাসের সাথে নিজের বিষন্ন মন খারাপ করা একটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি,যাতে তার ব্যক্তিগত হতাশার চিত্র ছিলো বেশ স্পষ্টই।
অন্যদিকে গুলশাখালিতে ইউপি চেয়ারম্যান পদের বিদ্রোহী প্রার্থী রকিব হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় দ্রুত তাকে লংগদুর রাবেতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়,তিনি সেখানেই এখানো চিকিৎসাধীন আছেন। পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে তিনি জানিয়েছেন, বুকে ব্যাথার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আকস্মিক মানসিক চাপের কারণে এই অসুস্থতা বলে সংশয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে মাইনীমুখ ও গুলশাখালিতে নৌকার বিদ্রোহী মূল প্রার্থীরা সরে গেলেও এই দুই ইউনিয়নে এখনো নৌকার জয় নিয়ে বেশ সংশয়ই আছে। মাইনীতে মাঠে রয়ে গেছেন আরেক বিদ্রোহী কামাল হোসেন কমল। অনমনীয় কোমল ভোটে মাঠে বেশ চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছেন নৌকাকে। এরশাদের ক্ষুদ্ধ ও অভিমানী সমর্থকরা যদি মাইনীতে কোমলকে আর রকিবের সমর্থকরা যদি গুলশাখালিতে নাছিরকে ‘নীরব ফেভার’ করে তবে নৌকার প্রার্থীদের জয় বেশ কঠিনই হয়ে যাবে বৈকি।
