এখন আর আগের মতো বেচাকেনা নাই ভাই, মাইনশে এখন আর আগের মত মাটির টবে ফুলও রাখে না। আগ থেইকা এই ব্যবসা কইরা আইছি তাই এখনো করতেছি। এই কথাগুলো বলছিলেন রাঙামাটি শহরের জগদ্ধাত্রী মেলায় মাটির তৈরি (মৃৎ শিল্প) ফুলদানি বিক্রি করা দোকানদার সলিম মিয়া (৩২)।
গত রোববার থেকে শহরের হ্যাপির মোড়ে জগদ্ধাত্রী পূজাকে কেন্দ্র করে বসেছে মেলা। মেলায় নানান ধরনের দোকান বসলেও বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্পের মাত্র একটি স্টলই বসলো, তাও সেটা সলিম মিয়ার দোকানই। সলিম থাকেন চট্টগ্রাম আর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়।
আলাপকালে সলিম মিয়া বলেন, আসা যাওয়া থাকা খাওয়া আর বেচাকেনার হিসাব করলে তেমন ঠিকে না। কয়েক হাজার টাকাই লাভ হয়। এরমধ্যে গত (৩০) কালের হালকা বৃষ্টি বাদলের কারণে তা আরও ভেস্তে গেছে। আজ শেষের দিনের মেলায় যদি ভালো বেচাকেনা হয় তাইলে মোটামোটি স্টাফগো বেতন দিতে পারবে।
সলিম মিয়ার স্টলে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরণের ফুলদানি ও মাটির টব। পাশে ছিলো ধান দিয়ে আর রঙ দিয়ে বাধাই করা দেয়াল পোস্টার, আছে নানান ধরনের মাটির তৈরি হ্যারিকেন, কোনটা আবার জ্বলে বিদ্যুতের সাহায্যে। বিক্রি করা এসব মৃৎ শিল্পের তেমন বেশি দাম দেখা যায়নি। ছোট মাপের ফুলদানির দাম ছিলো ৫০ থেকে ৭০ টাকা। এছাড়া মাজারি গুলো ১০০-২৫০ টাকার মধ্যেই। বড় বড় ফুলদানি ৫’শ থেকে সাত’শ তেই পাওয়া যাচ্ছে। মাটির তৈরি হ্যারিকেন ১৫০-২৫০ আর বিদ্যুতের সাহায্যে জ্বলাগুলা সাড়ে চার’শ।
আছে মাটির তৈরি টবও। যেগুলো বাসার জানালাও টাঙ্গিয়ে রাখা যাবে। দাম ছিলো এক’শ থেকে দু’শ টাকার মধ্যেই।
গত দুই দিনের বেচাকেনা তেমন না হলেও শেষ দিনে ভালো বেচাকেনা হলে স্টাফদের বেতন দিতে পারবে এমনই আসাব্যক্ত করেন সলিম মিয়া। তিনি বলেন, তিনি বলেন আমার বেশি বেচাকেনা করতে হবে না। আমার টার্গেট আছে ৩০-৪০ হাজার টাকা মাল বিক্রি করলেই হবে।
এই মেলা শেষ করে এরপর তিনি খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়। সেখানে আবার নাকি শুরু রাসমেলা। এভাবেই এক মেলা থেকে এক মেলায় ঘুরে ঘুরে এসব মৃৎ শিল্প বিক্রয় করেন তিনি।
