সাংগঠনিক কাজ শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই ইউপিডিএফের অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমা ‘নিখোঁজ’ রয়েছেন। এরপর থেকে তার কোনো ‘হদিস পাওয়া যাচ্ছে না’ দাবি করে তাকে ‘অপহরণের’ অভিযোগ তুলেছে ইউপিডিএফ সমর্থিত চারটি সহযোগি সংগঠন।
সোমবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি অংগ্য মারমা, শ্রমজীবী ফ্রন্টের (ইউডব্লিউডিএফ) সভাপতি সচিব চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিপুল চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা এ অভিযোগ করেন।
‘নিখোঁজ’ মাইকেল চাকমা পাহাড়ে পূর্ণশায়ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাহাড়ীদের সংগঠন প্রসিত খীসা নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোকেট্রিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) অন্যতম সংগঠক ও শ্রমজীবী ফ্রন্টের (ইউডব্লিউডিএফ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ‘‘পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বৈসাবি (বৈসুক-সাংগ্রাই-বিঝু) ও রানা প্লাজা ধ্বংসযজ্ঞের বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণের জন্য মাইকেল চাকমা শ্রমিক এলাকায় সাংগঠনিক সফরে যান। কাঁচপুর এলাকায় সাংগঠনিক কাজ শেষে গত ৯ এপ্রিল বিকালে ঢাকায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা সভায় যোগদানের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর থেকে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। তাকে নিয়ে তার পরিবার ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।’’
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ‘‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত ও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে ধ্বংস করে দেয়ার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।’’
বিবৃতিতে চার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সরকার এ ঘটনার দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এবং ‘অপহৃত’ মাইকেল চাকমার কোনো কিছু হলে সরকারকে দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
