গত ২৯ আগস্ট ছাত্রলীগের যে চার নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে রাঙামাটি সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম,দুইদিন পর ১ সেপ্টেম্বর সেই চার নেতাকে পাশে বসিয়ে করা পাল্টা আরেক সংবাদ সম্মেলন থেকে ‘ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে’ তারই অপসারণ ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুন:নির্বাচন দাবি করেছে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিনকে ‘অনুপ্রবেশকারি’ ‘সাবেক ছাত্রদল ও জাসাস নেত্রী’ ‘বিএনপি-জামাতের এজেন্ট’ ‘চরিত্রহীনা’ এবং ‘অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত’ ‘কুচক্রী’ ‘ষড়যন্ত্রকারি’ বলেও অভিহিত করেন ছাত্রলীগ নেতারা।
মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনসমূহের জেলা কার্যালয়ে জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত নাসরিন ইসলামকে সংবাদ সম্মেলনে ‘বিতর্কিত’ বলেও মন্তব্য করেন ছাত্রলীগ নেতারা।
তিনদিন আগে, ২৯ আগস্ট ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে ‘শ্লীলতাহানি’র অভিযোগ এনে অভিযুক্তদের বিচার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করার পরদিনই তাকে জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার এবং সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন পদে না থাকার কথা জানানো হয় পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নাসরিন ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান থেকে অপসারণের দাবি জানানো হলো।
রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নাসরিন ইসলাম তার সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কতিপয় নেতা কর্মীর নাম জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, মানহানিকর, বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য পরিবেশন করেছেন, যা দুঃখজনক। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ কলুষিত করে তোলায় এলাকাবাসী তার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। আলোচিত এই বিষয়ের যাবতীয় ঘটনাবলী নেহায়েত একটি এলাকার সামাজিক পরিবেশ বিনষ্টকারী একটি ঘটনা মাত্র। ছাত্র জীবনে তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে নেতৃত্বে ছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা( জাসাস) এর একজন সক্রিয় কর্মী।’
প্রকাশ চাকমা আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ ধ্যান ধারণা অন্তরে লালন না করে ক্ষমতার লিপ্সা নিয়ে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছেন যা তার কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি তার সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগসহ অভিভাবক সংগঠন আওয়ামীলীগের কুৎসা রটনা করেছেন। যা যড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত মর্মে প্রতীয়মান হয়।
গত ২৯আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে নাসরিন ইসলাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ছাত্রলীগকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যমে যে সকল মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন সেটি তথ্য প্রযুক্তির আইনেরও সু-স্পষ্ট লংঘন। এই সংবাদ সম্মেলন থেকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্নকারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলামকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করে উক্ত পদে পুন:নির্বাচন দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন ছাড়াও নাসরিনের থানায় দায়ের করা অভিযোগে অভিযুক্ত চার ছাত্রলীগ নেতা, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বাপ্পী,সহ-সম্পাদক আনোয়ার হোসেন কায়সার, সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ইমরুল, রাঙামাটি সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগষ্ট রাঙামাটি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিক ইসলাম অভিযোগ করেন যে, ২৪ আগষ্ট রাত নয়টার সময় উপজেলা পরিষদের টিউবওয়েল বসানো নিয়ে বাসায় এক সভা চলাকালীন সময় রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর জব্বার সুজনের ছত্রছায়ায়,তারই লালিত ছাত্রলীগের এই চার নেতা বাসায় হামলা করে। এসময় বাসার ভিতর ভাঙচুরসহ আমাকে শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা চালায়। রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বাপ্পী, জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন কায়সার, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ইমরুল,রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহউদ্দিনসহ ১০-১৫ জন মিলে আমাকে দরজার ভিতরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে আটকে ছুরি, রড দিয়ে আঘাত করে। এমনকি আমার নাবালিকা মেয়েকে নির্যাতন করে গায়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।’
তিনি আরো জানান, এসব বিষয়ে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো মামলা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়নি অভিযোগটি। আমি নিজেই আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েও ছাত্রলীগের কতিপয় সন্ত্রাসীর কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। এর পরদিনই তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে রাঙামাটি জেলা কৃষকলীগ এবং সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বিবৃতি দেয় সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ।’ নাসরিন ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি এবং সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আছেন এবং আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবেই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।
