জিয়াউল জিয়া ॥
রাঙামাটিতে অপহরণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় খালাস পেয়েছেন এক আসামি। মামলার দুই তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অদক্ষতা ও অসদাচরণের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক।
রবিবার দুপুরে রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক এইএম ইসমাইল হোসেন এই আদেশ দেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ইং সনে ভিকটিমকে শহরের তবলছড়ি হতে অপহরণ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং কিল ঘুষি দিয়ে তলপেটে আঘাত দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে। ভিকটিমের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামি ভিকটিমকে আহত অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে ভিকটিমের পিতা ঐদিন থানায় মামলা করেন।
রায় থেকে জানা যায়, রাষ্ট্রপক্ষ মামলা প্রমাণের জন্য এজাহারকারী ও ভিকটিমসহ আটজনের সাক্ষী উপস্থাপন করে। এই মামলার অপরাধ প্রমাণের ব্যবহারযোগ্য আলামত জব্দ না করা, অপহরণের ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র প্রস্তুত না করা, ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন না করাসহ তদন্তে গুরুতর অবহেলা করার কারণে কোতয়ালী থানার এসআই মো. আনোয়ার কামাল হারুন ও এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অদক্ষতা ও অসদাচরণের দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর (১৮)৮ ধারা মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।
আসামি পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট মোখতার আহম্মদ জানান, বাদী পক্ষ সন্দেহাতীতভাবে ঘটনা প্রমাণ করতে পারলেই কেবল আসামির শাস্তি হয়, কিন্তু এখানে বাদীপক্ষ তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আসামি খালাস পেয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম অভি জানান, এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। শুধুমাত্র তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে আসামি খালাস পেয়েছেন। আলাদত তদন্তকারী কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক যে ব্যবস্থ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে এতে করে ভবিৎষ্যতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা আরও সতর্ক হবে।
