আগস্ট ২০১৭ থেকে জানুয়ারি ২০১৮ এই ছয় মাসে রাঙামাটি জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস রাঙামাটিতে মোট অভিযান পরিচালনা করেছেন ১৯৬টি। এর মধ্যে নিয়মিত মামলা হয়েছে একটি। আসামির সংখ্যা ১ জন। পাশাপাশি একই সময়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মামলা হয়েছে ৩৯টি এবং এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৯ জন। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থ দন্ড ৪৬ হাজার ৯ শত টাকা এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে ১৬ জনকে। সব মিলিয়ে এসময়ে মোট মামলা ৪০টি । উল্লেখিত সময়ে চোলাইমদ ৯০৬ লিটার, জাওয়া ৮০০ লিটার ডিএস ১৫০ লিটার,গাঁজা ৭৬০ গ্রাম উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাদকের অপব্যবহার বিষয়ক এক প্রেস ব্রিফিং এ জেলা মাদক দ্রব্য কার্যালয়ের সাফল্যের এ চিত্র তুলে ধরা হয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সফলতার এই তথ্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকেদের বিস্মিত করে এবং প্রেস ব্রিফিং এ অংশগ্রহণ কারী সাংবাদিকগণ প্রকাশ্যে তাদের হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যেখানে রাঙামাটিতে প্রতিনিয়ত মাদকের ভয়াবহ ছোবলে এখানকার যুব সমাজ অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, মাদকের ব্যবহার বেড়ে চলেছে প্রতিরোধবিহীন, সেখানে মাদক দ্রব্য কার্যালয়ের মাদকের বিরুদ্ধে এসব অভিযান চরম হতাশাজনক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার চরম পরিচয় বলে মত ব্যক্ত করেন।
মাদক বিষয়ে জেলা পর্যায়ের এই প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হলেও সভায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কোনও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন না পুলিশ বিভাগের কোনও কর্মকর্তা। রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট, জেলার সহকারী তথ্য অফিসারসহ জেলা তথ্য অফিসের কয়েকজন স্টাফ উপস্থিত ছিলেন এ প্রেস ব্রিফিং এ।
সভায় উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা মাদক দ্রব্য কার্যালয়ের বিগত ৬ মাসের মাদক বিরোধী অভিযানের সফলতায় হতাশা ব্যক্ত করে জানান, জেলায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পাশাপাশি পুলিশ এবং বিজিবি বিভিন্ন সময় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন এবং এই বিষয়ে প্রতিমাসে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচিত হয়। তিনি মাদকের বিরুদ্ধের সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, রাঙামাটিকে মাদকের ভয়াবহতার হাত থেকে রক্ষা করতে সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মাদকের পরিণাম যে কতটা ভয়াবহ সে বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকগণ রাঙামাটিতে ইয়াবা, হেরোইনসহ অন্যান্য জীবন ধ্বংসকারী মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে বলেন, এসব মাদকদ্রব্য সেবনকারী, বিক্রয়কারী এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতীব জরুরি।
রাঙামাটি জেলায় মাদক দ্রব্য কার্যালয়ের কার্যক্রমের এ অচালবস্থার কথা জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা মাদক দ্রব্য কার্যালয়ের টিএন্ডটি ফোনে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত অফিস সহকারী জানান, অফিসের সহকারী পরিচালকের পদ শূন্য আছে। চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালককে দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত দায়িত্ব। এ অফিসে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে আছেন ৩ জন। কার্যালয়ের পরিদর্শক অসুস্থ বিধায় তিনি সকালের প্রেস ব্রিফিং এ যোগ দিতে পারেননি। অফিস সহকারী জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকটের কারণে এই কার্যালয়ের কর্মকান্ড মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
