নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই ॥
কাপ্তাই উপজেলাধীন শীলছড়ি এলাকার প্রায় ৫ হাজার মানুষ স্বাধীনতার ৫০ বছরেও বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত। কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করে আনতে হয় তাদের। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে এই এলাকার মানুষের দিনকাল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসির দাবি শীলছড়িতে একটি ডিপটিবওয়েল স্থাপন করে দেওয়ার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াগ্গা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড শীলছড়ি এলাকা। এই এলাকায় প্রায় ৫ হাজার পাহাড়ি-বাঙালির বসবাস। বিভিন্ন সময় উপজেলা থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ সদস্য, ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরও এলাকায় বসবাসরত জনসাধারনের ভাগ্যে একটি ডিপটিউবওয়েল জোটেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। জনসাধারণ বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছে। পানির অভাব দূর করতে কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে এলাকার লোকজন বিভিন্ন উপায়ে পানি সংগ্রহ করছে। আর এই পানি আনতে গিয়ে ঘন্টার,পর ঘন্টা অপেক্ষা ও অতিরিক্ত টাকা খরচ এবং অতিরিক্ত শ্রম দিতে হচ্ছে তাদের।
বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় এলাকার লোকজন পার্শ্ববর্তী নদীর পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। এলাকার বাসিন্দা মোঃ এমরান হোসেন, রহিম উল্লা, ফাইমং কার্বারি, শহিদউল্লা, হোসেন মোল্লা, হাজি সিরাজ, আতিক মিস্ত্রী,ও ভুট্টো বলেন, যুগযুগ ধরে অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর অতিবাহীত হলেও এলাকার লোকজন একটি বিশুদ্ধ পানি বা ডিপটিউবওয়েল থেকে বঞ্চিত রয়েছে। দীর্ঘবছর যাবৎ তারা সুপেয়ও পানির অভাবে ভুগছে। তারা বহুদুর থেকে বিশেষ করে বড়ইছড়ি, বিজিবি ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকা হতে নানা বাহনযোগে পানি সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করছে। বিশুদ্ধ পানি না থাকার কারনে তারা এবং পরিবারের লোকজন ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করায় তাদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। তাই তারা প্রশাসনের নিকট শীলছড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির একটি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করার আহবান জানান।
এদিকে, শীলছড়ি এলাকার ইউপি সদস্য মাহাবুব আলম জানান, এলাকাবাসি দীর্ঘবছর ধরে বিশুদ্ধ পানি সংকটে ভুগছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করতে যদি কারো পা ধরতে হয়, তাও ধরবো বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, শীলছড়ি আনসার ক্যাম্প ও আইডিএফের দু’টি টিউবওয়েল ছিল। এই টিউবওয়েলের পানি সংগ্রহ করে এলাকাবাসি বিশুদ্ধ পানির অভাব মিটিয়েছিল। দীর্ঘদিন যাবৎ ওই দু’টি টিউবওয়েল বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে লোকজনের কষ্টের মাত্রা বেড়ে গেছে। এখন লোকজন বহুদুর থেকে বিভিন্ন বাহনের মাধ্যমে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করছে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর আওতাধীন যে সকল রিংওয়েল ছিল তা দীর্ঘ বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও তা আর মেরামত করা হয়নি।
