আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্র সংগঠনের নেতাদের ভাবনা ও কার্যক্রম নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে আমরা কথা বলেছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ-সহযোগি ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’ এর নেতাদের সাথে।
দীর্ঘদিন এ দল ক্ষমতার বাইরে থাকায় ক্ষমতাশীল দলের কাছ থেকে অনেক মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি এ দলের নেতাদের। সর্বশেষ দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জেলে এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকাসহ দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের আটক ও হত্যার জবাব দিতে এবং বেগম জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ হিসেবে আসন্ন একাদশ নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ করছেন বলেও মন্তব্য ছাত্রদলের নেতাদের।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ রাঙামাটি আসনে ধানের শীষ মার্কায় বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান। ইতিমধ্যে তিনি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শহরে ভোটের প্রচারণায় চোষে বেড়াচ্ছেন। দলের এই প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ সাব্বির বলেন, ‘আমাদের ছাত্রদলের প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড এবং ইউনিট নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। তাদেরকে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে সরকার পক্ষ নির্বাচন বানচাল করার জন্য আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর নানানভাবে হামলা করছে এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। শহরের ভেদভেদীতে আমি নিজেও প্রচারণার কাজ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এসব হামলা-মামলা দিয়ে আমাদেরকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমরা আসন্ন ৩০ তারিখ বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যালট বক্স পাহারা দিবো।’
রাঙামাটি সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক আহম্মেদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে ছাত্রদলকে শক্তিশালী করেছি। বর্তমানে ইউনিয়ন পর্যন্ত আমাদের বিশাল বাহিনী রয়েছে। ধানের শীষের গণজোয়ার এখন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি জুড়ে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদেরকে বাধা দেয়ার জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাশীল দল। তবে শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতির ছাত্র বাহিনী ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’ জনগণকে সাথে নিয়ে এই প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করবে।’
রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অলি আহাদ বলেন, ‘রাঙামাটি শান্তির শহর। তবে এখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আমরা দেখছি না। প্রচার-প্রচারণার সময় বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। ক্ষমতাশীল দল সব সময় আমাদের কর্মীদেরকে বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। আমাদের প্রার্থীর লাগানো পোস্টার ও ব্যানার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এত প্রতিবন্ধকতার পরেও আমাদের কর্মীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে উৎসাহ নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমাদের ওপর জেলা ছাত্রদলের নির্দেশ আছে, মাঠে থাকতে হবে। এটাও বলা আছে কোন প্রকার সংঘাতে যেনো আমরা জড়িয়ে না যায়। তাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছি। আমাদের ওপর নানান ভাবে হামলা ও উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলার পরেও আমরা কিছু করছি না। তবে ৩০ তারিখ নির্বাচনে আমরা কেন্দ্র ছাড়বো না, প্রয়োজনে লাশ হয়ে ফিরবো। এটাই আমাদের শেষ কথা।’
