১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিল মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ের ব্যবধানে সন্তু লারমার উপজাতীয় অস্ত্রধারী শান্তিবাহিনীর হাতে পানছড়ি উপজেলায় ৮৫৩ জন, দিঘীনালা উপজেলায় ৮৯৮ জন এবং মাটিরাঙ্গার তাইন্দং এলাকায় ৬৮৯ জন নিরীহ বাঙালি নারী,শিশু, আবাল-বৃদ্ধ বনিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করার স্মৃতিচারণ করে ও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট পারভেজ তালুকদার এই হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদের গ্রেফতার ও বিশেষ ট্রাইবুনাল করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পার্বত্য গণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার তাইন্দং,পানছড়ি ও দীঘিনালায় , ১৯৮৬ সালে সংঘটিত ২৯ শে এপ্রিল গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শোকসভায় পার্বত্য গণ পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার বলেন , এ গণহত্যায় হাজারো বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে । যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর মাধ্যমে এ হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে ।
পার্বত্য গণ পরিষদ রাঙামাটি জেলার সভাপতি আবদুল খালেক এর সভাপতিত্বে ও জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার এ কথা বলেন । তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত শান্তিবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত হাজারো হত্যাকান্ডের মধ্যে সবচে কুখ্যাত হত্যাকান্ড হল ১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিলে সংঘটিত এ তিনটি স্থানে গণহত্যা।’
এসময় বক্তারা বলেন, ‘হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, দা-কুড়াল, খন্তি, বাশেঁর ফালি দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুচিয়ে , জবাই করে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে, গুলি করে , বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নানা ভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছিল এই অসহায় নিরীহ নিরপরাধ বাঙালি মানুষগুলোকে। তাদের অপরাধ ছিল তারা সরকারের আহবানে জঙ্গলময় অবাসযোগ্য পার্বত্য চট্রগ্রামকে বসবাসযোগ্য করতে সেখানে সরকারীভাবে প্রদানকৃত জমিতে বাসযোগ্য করে বসতী গেড়েছিল। সেদিন এই নিরীহ বাঙালিদের হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, প্রতিটি পুরুষ মহিলা বাচ্চার মৃতদেহের উপর পাশবিক অত্যাচার করে প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে চরম পাশবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল তারা।’
বক্তারা বলেন, সেদিন আজকের মতো আধুনিক প্রচার মাধ্যম না থাকাতে এ খবর চাপা পড়ে যায় । প্রশাসন পাহাড়ী-বাঙালি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে মিডিয়াতে খবর প্রচারে বাধা দিয়েছিল । তাই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোন সংবাদপত্রে ফলাও করে প্রচার করে প্রচারিত হয়নি এ ঘটনা । কিন্তু দেশবাসীর আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম এর এ চাপা পড়া ইতিহাস জানা জরুরি। নয়ত ইতিহাস জাতিকে কখনো ক্ষমা করবে না! ’
এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন , পার্বত্য গণ পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মো আলমগীর , মো আলম , মো রাসেল সরকার , জেলা নেতা লংগদু উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রুস্তম ফরাজী , আহমদুর রহমান , নানিয়ার চর উপজেলা নেতা ইসরাফিল সরকার , কাপ্তাই উপজেলা সভাপতি মো ইব্রাহিম , সেক্রেটারী মো জিয়াউল হক, উপজেলা নেতা মো আনোয়ার ,পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ তহশীলদার, কাউখালী উপজেলা সেক্রেটারী মেহেরাজ সরকার রাজু রাঙামাটি সদর উপজেলা সভাপতি মো রাসেল ,সেক্রেটারী আবদুল শুক্কুর প্রমূখ । সভাশেষে নিহতদের জন্য দোয়া পরিচালনা করেন মৌলানা মো ইব্রাহিম । ( প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

১ Comment
করতে হবে