কোভিড-১৯ এর প্রভাবে এলোমেলো নাগরিক জীবন। দৃশ্যত ঘরবন্দী সব মানুষ। এমন সময় জীবনের তাগিদেই বাইরে থাকা রাঙামাটির সাবেক দুই মেয়র নিজ শহরে,নিজ বাড়ীতে ফিরেছেন শেকড়ের টানেই। কিন্তু নিয়ম তো কারো জন্যই পৃথক নয়,তাই দুইজনকেই হোম কোয়ারেন্টিনে দিয়েছে প্রশাসন।
গত ২৯ এপ্রিল রাঙামাটি শহরে আসেন চট্টগ্রামে আটকে পড়া সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো। পরিবার চট্টগ্রাম থাকলেও নিজে একা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই রাঙামাটি প্রবেশ করেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাবেক এই তরুন মেয়র। তবে শহরে ঢোকার সময়েই তাকে কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি জানিয়ে দেয় প্রশাসন। ফলে গত ২৯ তারিখ থেকেই ১৪ দিনের জন্য রাঙামাটি শহরের স্বর্ণটিলায় নিজ বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন এই সাবেক মেয়র।
অন্যদিকে গত ৯ মে রাঙামাটিতে ঈদের ছুটিতে সপরিবারে নিজ বাড়ীতে আসেন বর্তমানে ঢাকায় অনিয়মিত বসবাস করা সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান। তিনিও প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই শহরে প্রবেশ করেন। তার পুরো পরিবারকেও কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেয় প্রশাসন। হাবিবুর রহমানের ছয় সদস্যের পুরো পরিবারও এখন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।
সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন- একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেই প্রশাসনের নির্দেশনা আমাদের সবার জন্যই একই রকম এবং সবারই তা মানা উচিত। আমিও সেটাই মানছি। প্রশাসনের কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা মেনে আমি রাঙামাটি আসার পর বাসা থেকে বের হইনি,কেউ আসলেও সাক্ষাৎ করিনি।’
সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান বলেন,‘ আমি আসার পর থেকেই পুরো পরিবার বাসায় আছি। যেহেতু প্রশাসন বলেছে হোম কোয়ারেন্টিন মানতে,আমরাও সচেতন নাগরিক হিসেবে সেটা অনুসরণ করছি।’
দুই সাবেক মেয়রেরই রাঙামাটিবাসির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে সামাজিক দুরত্ব অনুসরন ও নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবেলা করার। রাঙামাটি এখনো করোনামুক্ত থাকায় সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে,দুই সাবেক মেয়রই রাঙামাটিবাসির প্রতি আরো বেশি সচেতন থাকার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ, দুই সাবেক মেয়রের কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত,১১ মে পর্যন্ত রাঙামাটি জেলায় ২১৪১ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ৬৭০ জন এবং হোম কোয়ারেন্টিনে ১৪৭১ জন। ১৭৭৬ জনের কোয়ারেন্টনের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং এখনো কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩৬৫ জন।
