করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে রাঙামাটির দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৩৮০ পরিবারের কাছে হেলিকপ্টারযোগে সরকারী ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার সড়ক বিচ্ছিন্ন জুরাছড়ি উপজেলা দূর্গম সীমান্তবর্তী দুমদুম্যা পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে এলাকাগুলো হলো ৪নং দুমদুম্যা ইউনিয়নের বগাখালী, আদিয়াছড়া, গন্ডাছড়া গ্রামে এসব ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের (চট্টগ্রাম সেনানিবাস) সার্বিক সহযোগিতা ও তত্বাবধানে ‘আর্মি এভিয়েশন’-এর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে ঐ সমস্ত এলাকায় ৪ মেট্রিক টন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, লবণ, আলু ও সাবান ।
এ সময় রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান, রাঙামাটি বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এ এস এম ফয়সাল, মেজর মোঃ মহিউদ্দিন ফারুকীসহ স্থানীয় হেডম্যান এবং কার্বারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলা দূর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সরকারী এ সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিলো না। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সেনা রিজিয়নের নিকট সহযোগিতা কামনা করলে, এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাৎক্ষনিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
আদিয়াছড়া, গন্ডাছড়া এলাকার সুর কুমার কার্বারী বলেন, দেশব্যাপী গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে আমাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছিলাম না। এতে করে আমাদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরিবার ও সন্তানদেরকে নিয়ে আমরা না খেয়ে মরার পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরকে ত্রাণ সরবরাহ করায় প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
দুমদুম্যা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার পুল রঞ্জন চাকমা বলেন, সব কিছু বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা ফসল বাজারে বিক্রি করতে পরছে না সইে কারনে তাদের অর্থ ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। বতর্মানে স্থানীয় বাজারে লবন ৫০ থেকে ৬০ কেজি, চাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। তাও অনেক সময় পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় স্থানীয়রা খাদ্য সামগ্রী পেল।
তিনি আরো বলেন এই তিনটি ওয়ার্ডে প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের বসবাস। এখন ৮০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি আরো কিছুদিন চলতে থাকলে আরোও খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন পড়বে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।
রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান বলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সেনা রিজিয়নের নিকট সহযোগিতা কামনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের (চট্টগ্রাম সেনানিবাস) সার্বিক সহযোগিতা ও তত্বাবধানে ‘আর্মি এভিয়েশন’-এর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে জুরাছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুমদুম্যা ইউনিয়নের বগাখালী বিওপিতে প্রায় ৩৮০ পরিবারে মাঝে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিতে পেরেছি।
