মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি
মিয়ানমার সীমান্ত উপজেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশি তৎপরতায় প্রায়শই আটক হচ্ছে ইয়াবা পাচারকারী, উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা। প্রশ্ন উঠেছে, এত ইয়াবা আসে কোথা থেকে? এর পিছনে কারা? এদিকে পুলিশি তৎপরতায় গত এক সপ্তাহে লক্ষাধিক ইয়াবা উদ্ধারের পাশপাশি অর্ধডজন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা সীমান্ত লাগোয়া শরনার্থী ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়ে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্থানীয়রা বলছেন, ইয়াবা পাচারের রশি রোহিঙ্গাদের হাতেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ সালামীপাড়া এলাকা থেকে এক রোহিঙ্গা নাগরিকসহ ৫ ইয়াবা কারবারিকে আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৬ হাজার ৫শ’ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলো- কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ৪নং ক্যাম্পের ৮/ডি-ব্লকের হেড মাঝি মো. আলী মিয়ার অধীনন্থ মৃত গোলাপ হোসেনের পুত্র ছাবের আহাম্মদ (৫৫), নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ছালামীপাড়ার মৃত মৌলভী জাকির হোসেনের পুত্র মো. সৈয়দ উল্লাহ (৫০), একই ইউনিয়নের চাকঢালা ৬নং ওয়ার্ড চেরারমাঠ এলাকার মৃত মকবুল আহাম্মদের পুত্র ছৈয়দ আলম (৪০), একই এলাকার মৃত আলী আহাম্মদের পুত্র মো. আবুল কাশেম (৩৫) এবং কক্সবাজার জেলার রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড থিমছড়ি এলাকার মৃত আমীর হামজা ওরফে মিয়াজির পুত্র মো. ইব্রাহিম খলিল (৩২)।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটক ৫ ব্যক্তিরাই মাদক ব্যবসায়ী সেন্ডিকেট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উপজেলা সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি-চাকঢালা সড়কের ছালমীপাড়াস্থ কালভার্ট ব্রিজের ওপর চাকঢালগামী সিএনজি-অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ৫ মাদককারবারিকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকালে তাদেরকে বান্দরবান জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সরকার পার্বত্য অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের বসবাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও পূর্বে আসা রোহিঙ্গাদের আত্বীয়-স্বজনদের বাসায় আশ্রয় নিচ্ছেন অসংখ্য রোহিঙ্গা নাগরিক। তাছাড়া তুমব্রু নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের এখনো সরিয়ে নেয়নি প্রশাসন। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রশাসনের নজরধারী বাড়ানোর পাশাপাশি নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রিত রাহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
