কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মন্দির ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নারীদের শ্লীলতাহানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বহিষ্কার ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সনাতন যুব পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের কাঁঠালতলী থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ঘন্টাব্যাপি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সনাতন যুব পরিষদ শহর কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত রাজার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি অমর কুমার দে, রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মহাজন, কাউন্সিলর রূপসী দাশগুপ্ত, সনাতন যুব পরিষদের সভাপতি জগন্নাথ ভদ্র, পুরোহিত কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি রণধীর চক্রবর্তী, প্রচেতা কৃপা দাস, সেলুন মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অজিত শীল, গীতা সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সাহা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাতন যুব পরিষদের শহর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু শীল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ম অবমাননার নামে মৌলবাদীরা গুজব ছড়িয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করার অধিকার থাকলেও মৌলবাদী মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্র করে এদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। মৌলবাদী শক্তির কাছে কোনও ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর যেসব হামলা, অগ্নিসংযোগ ঘটেছে সেসব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।
প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর কুমিল্লা মুরাদনগরে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজব তুলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে।
