পাঁচ মাস পর রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি খুলে দিয়েছে প্রশাসন। বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ ছিল জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই পর্যটন স্পট। সাজেক খুলে দেয়ার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রথমদিনেই প্রায় তিন শতাধিক পর্যটক সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে আসেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
তবে যে ৭ শর্তে খুলে দেয়া হয়েছে তা হলো- পর্যটকদের অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। রিসোর্টে এক রুমে একজনের অধিক থাকা যাবে না, ব্যবসায়ীদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী রাখতে হবে। রুম সবসময় জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত অমান্যকারীদের শাস্তি স্বরূপ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিনদিন রিসোর্ট বন্ধ রাখা হবে।
মঙ্গলবার সাজেক খুলে দিচ্ছে খবর পেয়েই বন্ধুদের নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসেন জামাল হোসেন। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ঘরের মধ্যে বন্দি থেকে একেবারে হাঁফিয়ে উঠেছি। যখনই শুনলাম সাজেক খুলছে তখনই বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথম দিনেই চলে যাব সাজেক। বলতে পারেন প্রশান্তির জন্যই আসা।
ঢাকা থেকে আসা সুজন জানান, দীর্ঘ লকডাউনের কারণে একেবারে অস্থির হয়ে গেছি; তাই স্বস্তির খোঁজে প্রকৃতির কাছেই ছুটে আসা।
ট্রাভেলস অব রাঙামাটির পরিচালক সাগর ওয়াহিদ জানান, লকডাউনের কারণে পর্যটনের সব ব্যবসা বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন আমরা কর্মহীন ছিলাম তেমনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিনতো হয়েছিই। লকডাউন শিথিল আর পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার পর ধীরে ধীরে পর্যটক যেমন আসতে শুরু করেছে তেমনি পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সাজেক খুলে দেয়ার পর বিভিন্নস্থান থেকে পর্যটকরাও যোগাযোগ করতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আমার তিনটি রিসোর্ট আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বুকিং হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই আমরা পর্যটকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি এবং পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রেও উৎসাহিত করছি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু জানান, ব্যবসায়ীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সাজেক খুলে দেয়া হয়েছে। তবে অবশ্যই তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কিছু শর্ত দিয়েছি। শর্ত অমান্যকারীদের শাস্তিস্বরূপ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিনদিন রিসোর্ট বন্ধ রাখা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছি। তবে সার্বিক বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় মনিটর করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য; গত ১৮ মার্চ থেকে করোনা মহামারির কারণে রাঙামাটি জেলায় পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই থেকে রাঙামাটি জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্রের মত সাজেকের সব রিসোর্টও বন্ধ ছিল।
