‘আমাদের এই মানববন্ধন পেশাদার ও সৎ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে নয়, আমাদের প্রতিবাদ সাংবাদিকতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে, যারা সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে একজন নারীর চরিত্রহননে মেতে উঠেছে,তাদের বিরুদ্ধে।’
সোমবার রাঙামাটিতে ‘সাংবাদিকতার অপব্যবহার বন্ধ এবং রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ‘সাইবার সন্ত্রাসের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটুক্তি’র প্রতিবাদে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এসব কথা বলেছেন ওই নারীর স্বজন,সহপাঠি, প্রতিবেশী ও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখা ব্যক্তিরা ।
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচীতে ভুক্তভোগি ওই নারীর সহপাঠি রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের বেশকিছু ছাত্রী অংশগ্রহণ করে এবং বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা স্বাধীন ও স্বচ্ছ নিরপেক্ষ গনমাধ্যমের সমর্থক। আমরা চাই মহান এই পেশাটি সৎভাবেই পরিচালিত হোক। কিন্তু কিছু দুষ্টু লোক এই পেশায় জড়িত হয়ে স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এর অপব্যবহার করছে। আমরা এইসব অপসাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সাংবাদিক নেতাদের প্রতি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগি নারী আর্জিয়া আলম আঁখি, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ব্যবসায়ি সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ। তারা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার যথাযথ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবিও জানান।
এর আগে রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানি ও কটুক্তির অভিযোগ এসে চার সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে রাঙামাটির কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন আর্জিয়া আলম আঁখি নামের এক নারী,যিনি রাঙামাটিতে কর্মরত একটি ইংরেজী দৈনিক জেলা প্রতিনিধির স্ত্রীও। মামলার চার আসামির মধ্যে জাহেদা বেগম (৪০) বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি, মো. আলমগীর মানিক (৩৮) এশিয়ান টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি। অন্য দুই আসামি মাসুদ পারভেজ নির্জন (২৪) ও শহিদুল ইসলাম হৃদয় (২৫) আলমগীর মানিকের সহযোগি।
থানায় দেয়া অভিযোগে ওই নারী জানিয়েছেন-‘ ‘প্রতারণামূলক ভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে আমি ও আমার স্বামীর আইডিতে ছদ্মবেশ ধারণ করে আপত্তিকর, মানহানিকর কমেন্ট করে হেয়প্রতিপন্ন ও ফেসবুক আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করে আসামিরা। পরবর্তীতে আইডি হ্যাক করে আমার ক্ষতির উদ্দেশে আইডি থেকে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে নেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলে। এছাড়া বিভিন্ন ভূয়া ফেসবুক আইডিতে আমার ছবি প্রকাশ করে আমাকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এরপরেও আমাকে এবং আমার স্বামীকে মেরে ফেলে লাশ গুম করে ফেলা, আমাকে সন্ত্রাসী দিয়ে অপহরণ করে ধর্ষণের হুমকি দেয় আসামিরা।’
ঘটনা প্রসঙ্গে মামলার বাদী আর্জিয়া আলম বলেন, ‘রাঙামাটিতে সাইবার ক্রাইম অপরাধীদের উৎপাত বেড়েছে। এই ক্রাইমের সঙ্গে জড়িতরা সংঘবদ্ধভাবে এসব করছে। এরা প্রতিনিয়ত অনেকের সঙ্গেই অপরাধ সংঘটিত করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা নিতেও ভুক্তভোগীরা ভয় পান। আমি (আঁখি), আমার স্বামী ও বাবাকে নিয়ে অনেক জঘন্য অপরাধ করে চলেছে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি। শেষ পর্যন্ত আমাকে ও আমার স্বামীকে সন্ত্রাসী দিয়ে অপহরণ, শ্লীলতাহানির হুমকি দিয়েছে।’
রাঙামাটির কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন মামলা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন,‘ ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক বাদীর অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে মামলা রুজু করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টের মামলা; তাই তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
