লংগদু প্রতিনিধি ॥
শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক ছেলেকে নিয়ে লড়াই সংগ্রামে জীবন চলে স্বামীহারা মনোয়ারা বেগমের। একদিকে সন্তানদের ভরণ পোষণ অন্যদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই এই দরিদ্র পরিবারটির। দুই ধাপে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৯৫টি গৃহ নির্মাণ হয় লংগদুর সাত ইউনিয়নে। এখানেও বিধবা দরিদ্র মনোয়ারার খবর কেউ রাখেনি।
স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করা হলে একটি ঘরের বরাদ্দ পায় মনোয়ারা বেগম। তৃতীয় ধাপে লংগদু উপজেলায় যে দশটি পরিবার মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছে তাদের মধ্যে মনোয়ারা বেগম একজন। দরিদ্র মনোয়ারার মতো আরো নয়টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর গৃহ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সারাদেশে একযোগে ৩১৯০৪টি গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভূমিহীন ও গৃহহীন দরিদ্র মানুষের জন্য এটা ছিল প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার। সারা দেশের মতো রাঙামাটির লংগদুতেও দশটি পরিবারকে এই উপহার প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে লংগদু উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গৃহ হস্তান্তর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা) জনি রায়’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার। সভায় বক্তব্য রাখেন, লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল আমিন, ভাইস চেয়ারম্যান মীর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম, প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষের কল্যানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দরিদ্র ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প একটি জনবান্ধব ও অতি প্রয়োজনীয় প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দেশের কিছু এলাকায় সমস্যার সম্মূখীন হলেও লংগদু উপজেলা ছিল এর ব্যতিক্রম। এখানে ইতোপূর্বে দুই ধাপে ১৯৫টি গৃহ নির্মিত হয়েছে। যার মধ্যে উপজেলার কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নে ৩৬টি গৃহ নিয়ে একটি আশ্রয়ন শিবির স্থাপিত হয়েছে। যেখানে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য গভীর নলকূপ, নামাযের স্থান, সীমানা প্রচীর ও তোরণ নির্মিত হয়েছে। এছাড়াও আজ (২৬ এপ্রিল) তৃতীয় ধাপে আরো দশটি গৃহ নির্মান সম্পন্ন হলো এই পাহাড়ি উপজেলায়।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান অজয় মিত্র চাকমা, মাইনীমূখ ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কমল, মুক্তিযোদ্ধা শাহনেওয়াজ চৌধুরী, খোরশেদ আলম।
