নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলাবাসীর উদ্যোগে সার্বজনীন মহাসংঘদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় পবিত্র তীর্থস্থান রাজবন বিহারে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন ও উদ্বোধনী ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। এছাড়াও ভগবান বুদ্ধ ও পরিনির্বাণপ্রাপ্ত মহাসাধক সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য প্রদান করা হয়। সার্বজনীন মহাসংঘদান উপলক্ষে পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার বাতি দান, বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা নির্মাণে অনুদান, পিন্ডদানসহ নানাবিধ দান করা হয়।
অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল নামে। বিশ্বের সকল প্রাণীর হিতসুখ ও মঙ্গল কামনায় এবং মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের জন্য নিরবতা (ভাবনা) ও মঙ্গল কামনা প্রার্থনা করেন পূণ্যার্থীরা। হাজারো পূণ্যার্থীদের ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মুখর হয়ে উঠে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ।
ধর্মীয়সভায় প্রধান বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সার্বজনীন মহাসংঘদান উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা নিখিল কুমার চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান। আরো বক্তব্য রাখেন নানিয়ারচর সার্বজনীন মহাসংঘদান উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রগতি চাকমা। অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল পাঠ করেন উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুদ্বীপ্ত চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কমল কান্তি দেওয়ান ও কিরণ ধর চাকমা।
ধর্মীয় সভায় বনভান্তের অমৃতময় বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে পূণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্ম দেশনা দেন, রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ও বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির। আরো ধর্মদেশনা দেন নানিয়ারচর রতœাংকুর বনবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ বিশদ্ধানন্দ মহাস্থবিরসহ রাজবন বিহারের সিনিয়র ভিক্ষু জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির।
