কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে কৃষিবিদ দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে রাঙামাটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অধ্যক্ষ কৃষিবিদ রমনী কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটির প্রাক্তন উপ-পরিচাক কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি অঞ্চলের প্রাক্তন অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটির উপপরিচালক কৃষিবিদ তপন কুমার পাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি অঞ্চল কার্যালয়ের উপপরিচাক কৃষিবিদ মো. নাসিম হায়দার, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিউট, রাঙামাটি উপকেেেন্দ্রর প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার কৃষিবিদ ড.আজাহার আলী এবং পিগ ফার্মের সিনিয়র সহকারি পরিচালক কৃষিবিদ কুসুম চাকমা।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, রাঙামাটি জেলা শাখার সাধানর সম্পাদক কৃষিবিদ তপন কুমার পাল বলেন, কৃষিবিদ দিবস এদেশের সকল কৃষিবিদদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে দাড়িয়ে কৃষিবিদদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা দেয়ার ঘোষণা দেন। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন। বঙ্গবন্ধু জানতেন কৃষির উন্নয়ন করতে হলে কৃষিতে মেধাবি মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা ঘোষণাকালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আন্দোলন করছিস বলে আমি দাবি মেনে নিলাম তা নয়, আমি চাই ভালো ছাত্রছাত্রী কৃষি পড়ুক’ আমি তোদের দাবি মেনে নিলাম তোরা আমার মুখ রাখিস।’ কৃষিবিদরা বঙ্গবন্ধুর মুখ রেখেছেন। দেশ আজ খাদ্যে স্বংসম্পূর্ণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশের পুনর্গঠনে প্রথমেই গুরুত্ব দেন কৃষি উন্নয়নের কাজে। ডাক দেন সবুজ বিপ্লবের। তিনি বলেছিলেন, ‘কৃষক ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ, কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে সবুজ বিপ্লব সফল করে তুলুন। বাংলাদেশকে খাদ্যে আত্মনির্ভর করে তুলুন।’ বঙ্গবন্ধু গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন কৃষির উন্নতি ছাড়া এদেশের মানুষের মুক্তি আসতে পারে না। এজন্য কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে আত্মনির্ভর। এ আত্মনির্ভরতা অর্জনে কৃষকদের সঠিক দিকর্দেশনা ও সহায়তা প্রদানে কৃষিবিদদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ রমনী কান্তি চাকমা বলেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক সোনালি অধ্যায়ের নাম কৃষি। উৎপাদনশীলতা, আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধির জন্য কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জাতির পিতার দূরদৃষ্টি প্রসূত উন্নয়ন ভাবনার উজ্জ্বল দিক হচ্ছে মেধাবি শিক্ষার্থীদের কৃষিশিক্ষায় আকৃষ্ট করা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রূপকল্প ২০২১ এর ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা ২০৩০ অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় এবং পাশাপাশি কৃষি সেক্টরে অর্জনের এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য কৃষিবিদরা সবর্দা সচেষ্ট আছে এবং থাকবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলার সর্বস্তরের কৃষিবিদগন অংশগ্রহণ করেন। (বিজ্ঞপ্তি)
