সাইফুল হাসান
এক সময়কার মানুষের যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল টেলিফোন বা ল্যান্ডফোন। তখন টিঅ্যান্ডটি একটি সংযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হতো তীর্থের কাকের মতো। সময়ের পরিক্রমায় বদলে গেছে সে চিত্র। সবার হাতে এখন মোবাইল ফোন। বিশ্ব এখন আধুনিক ইন্টারনেট যুগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে পিছিয়ে নেই বিটিসিএলও। তাই তো বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ইন্টারনেট পরিষেবাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) টেলিফোন (ল্যান্ডফোন) পরিষেবার পাশাপাশি অধিক হারে কাজ করছেন ইন্টারনেট পরিষেবায়। তাই টেলিফোন ভবন এখনও সরগরম কাজের মধ্যে দিয়ে।
রাঙামাটি টেলিফোন ভবন সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটিতে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত এবং স্থানীয় মানুষের বাসায় প্রায় এক হাজার দুইশ’র মতো টেলিফোন সংযোগ রয়েছে। টেলিফোন সংযোগের ক্ষেত্রে সব যন্ত্রপাতি এখনও সচল এবং নতুনত্ব রয়েছে বলেও জানা যায়। তবে টেলিফোন সংযোগের পাশাপাশি অধিক হারে কাজ চলছে ইন্টারনেট পরিষেবার খাতে। রাঙামাটি শহরে ৯১১টি জিপনসহ(ওয়াইফাইয়ের সংক্ষিপ্ত রুপ) বিভিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ মিলে প্রায় এক হাজারের মতো ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।
টেলিফোন ভবন সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে জেলাজুড়ে নিজস্ব জায়গা বিভিন্ন কোম্পানিকে ভাড়া, ফাইভার অপটিক্যাল ভাড়া, জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় টাওয়ার ভাড়া দিয়ে আয় করছে বিটিসিএল। যদিও এসব কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে লোকবলের সংকট রয়েছে টেলিফোন ভবনে।
জানা যায়, তাদের ১৩১টি পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত ৮৪ জন। আরও ৪৭ জনের পদ খালি। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (পার্বত্য অঞ্চল) মো. তৌহিদ উল্লাহ বলেন, ‘আমি মার্চ মাসে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকে অফিস অবকাঠামোর কাজ করে যাচ্ছি। অফিসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সব যন্ত্রপাতি সচল এবং ভালো রাখতে কাজ করছি।’ তিনি আরও জানান, আমাদের টেলিফোন সংযোগ প্রায় এক হাজার দুইশ। আমরা জিপন ও বিভিন্ন ইন্টারনেটের হাজার খানিক সংযোগ দিয়েছি।
রাঙামাটিতে এখনও টেলিফোনের চাহিদা রয়েছে। কারণ হিসেবে বলতে পারি এখানে বিভিন্ন স্থান ঢালু হওয়ায় অনেক স্থানে মোবাইল ফোনের সংযোগ পাওয়া যায় না। সেজন্য বিভিন্ন বাসাবাড়িতে টেলিফোন সংযোগ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য খাতে আমাদের বিভিন্ন কর্মকা- চলমান। লোকবলের সংকট রয়েছে তার পরও বর্তমানে যে লোকবল রয়েছে তা দিয়ে আমরা আমাদের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি।
