৫৮ বছর বয়সী আবুল হাশেম স্ত্রীকে নিয়ে বনরূপা থেকে তবলছড়ি যাচ্ছিলেন মোটর সাইকেল চালিয়ে। পুরাতন বাসস্টেশন আসার সাথে সাথেই পাশ থেকে একটি অটোরিক্সা জোরে ধাক্কা দেয়ায় রাস্তায় ছিঁটকে পড়েন স্বামী স্ত্রী দুজনেই এবং গুরুতর আহত হন। পথচারিরা দ্রুত উদ্ধার করেন করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তাদের। দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আঘাত পান হাশেমের স্ত্রী।
মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে আটোরিক্সা নিয়ে চলে যায় চালক। চালক নেমে দেখার কোন প্রয়োজনই বোধ করে নাই যে, আহতদের দেখা বা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার। অন্যদিকে সে অটোরিক্সায় থাকা যাত্রী যখন চালককে বলে গাড়ি দাঁড় করিয়ে আহতদের দেখার জন্য, তখন চালক উত্তর দেয়-‘রাস্তায় চলতে গেলে এমন দুর্ঘটনা হবেই।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা এবং আহত হাশেম চালক ও গাড়িটি চিহ্নিত করতে চাইলে তারা দেখেন, গাড়িটিতে কোন ধরণের নাম্বার নাই, কারণ গাড়ীটি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত শহরে চলাচলকারী নাম্বারবিহীন গাড়ির একটি। শেষ পর্যন্ত গাড়িটির খোঁজে বের করতে সক্ষম হলেও নাম্বার না থাকার কারনে শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছিলোই না যে, এ গাড়িটিই ধাক্কা দিয়েছে। জানাচ্ছিলেন আহতের পরিবারের সদস্যরা।
দুর্ঘটনার শিকার হাশেমের জামাতা শিক্ষানবীশ আইনজীবি আবুল কালাম আকাশ বলেন, নাম্বার না থাকার কারনে আজ আমরা প্রমাণ করতে পারছি না যে এই গাড়িটিই আমার শ্বশুর শাশুড়িকে ধাক্কা দিয়েছে। যদিও আমরা বিভিন্নভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে, নাম্বারবিহীন গাড়িটি চালাচ্ছে ওসমান নামে এক চালক, তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে চালক ওসমান সরাসরি অস্বীকার করে বলে যে, সেটি তার গাড়ি নয় এবং সে গাড়ি চালায় নাই। নাম্বারবিহীন গাড়ি বলেই আমরাও যেমন তাকে নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারছি না, তেমনই সেও অস্বীকার করে নিজেকে নিরাপদ করে রাখছে। তারপরও সমিতির সভাপতিকে জানিয়েছিলাম, তিনিও গাড়ি খুজে পাচ্ছে না, গাড়িটি নাম্বার না থাকার কারনে।
নাম্বারবিহীন অটোরিক্সা নিয়ে জনমনে যে আতংক তৈরী হয়েছে তাই সত্য হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এমন দুর্ঘটনা প্রায় ঘটলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না রেজিস্ট্রেশন না থাকায় খুঁজেও বের যাচ্ছে নানা অপরাধিদের।
রাঙামাটি পৌর অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব এম জিসান বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চলাচল সাধারন মানুষের জন্য নিরাপত্তার হুমকী। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হউক। আমরা শুরু থেকেই এই কথাটি বলে আসছি। পৌরবাসির নিরাপদ জীবনের জন্য রেজিস্ট্রেশনবিহীন কোন গাড়ী চলতে দেয়া উচিত নয়, তেমনি উচিত হয় লাইসেন্সবিহীন কোন চালককে গাড়ী চালাতে দেয়া।
রাঙামাটি অটোরিক্স চালক সমিতির সভাপতি পরেশ মজুমদার বলেছেন, সরকারের বৈধতা ছাড়া গাড়ি চালানোর কোন সুযোগ নাই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে আমরা খুশি। আমরাও এইসব কারণে বিব্রত।’
রাঙামাটি ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মত ইসমাইল বলেছেন, আমরা নাম্বারবিহীন অটোরিক্সা আটকের জন্য নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, অভিযান চলছে, এ অভিযান চলমান থাকবে। রাস্তায় কোন নাম্বারবিহীন গাড়ি চলাচল করতে পারবে না।’
