নেতা যদি যোগ্য হন আর নেতৃত্ব যদি পোক্ত হয় তবে সেই টিম যেকোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম। দুর্যোগ-দুর্ভোগ তাদের টলাতে পারেনা। বিপদ মোকাবেলায় মনোবল চাঙ্গা রাখতেও দরকার একজন দক্ষ মাঝির। যেকোনো বিপদে রাঙামাটিবাসীকে ক্ষতি থেকে মুক্ত রাখতে নির্ভীক নাবিকের ভুমিকায় যে মাঝি হাল ধরেন তিনি রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ। তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব আর দুর্যোগ মোকাবেলায় গৃহীত আগাম পদক্ষেপের কারণেই যেকোনো বিপদে বা দুর্যোগে ক্ষতি থেকে রেহাই পান রাঙামাটিবাসী। নিজেই যেমন জেলার আনাচে কানাছে অসহায় মানুষের পাশে ছুটে যান তেমনি তাঁর অধঃস্তনরাও কাজ করে যান সমানতালে। আন্তরিকতা ও ভালবাসার যেন কমতি নেই কারো মাঝে এতটুকু। মাঝি যদি সাহসী আর দক্ষ হয় সেই তরি ডুবে কি করে। আর তাইতো রাঙামাটিবাসীর ভালবাসার মনি কোটায় স্থান করে নিয়েছেন জেলাপ্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ।
জেলাপ্রশাসকের সবচেয়ে কাছে থাকা অফিসার এনডিসি উত্তম কুমার দাশ। তিনিও তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শোনান। এনডিসি উত্তম কুমার দাশ বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের কাছাকাছি যেহেতু থাকি, সেহেতু স্যারের কার্যক্রম খুব কাছ থেকেই দেখার সুযোগ আমার হয়। রাঙামাটির যেকোনো দুর্যোগে ডিসি স্যার তাঁর দুরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। এছাড়াও সরকারি যেকোনো নির্দেশ তিনি দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করেন। সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের কারণে রাঙামাটির শ্রমজীবি ও নিম্ম আয়ের কোনো লোক যাতে অনাহারে না থাকেন সেজন্য ডিসি স্যার বাসায় বাসায় গিয়ে ত্রান সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। রাতের আঁধারেও স্যার অসহায় মানুষদের কাছে গেছেন সহায়তা পৌঁছে দিতে। স্যারের আন্তরিকতা দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও চলমান পরিস্থিতিতে রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য তিনি প্রত্যেকটা উপজেলার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সার্বক্ষনিক খবরাখবর রাখছেন। ডিসি স্যারের সুদক্ষ নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সকলে আন্তরিকতার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বরকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মনজুরুল হক জানান, ‘‘রাঙামাটির সুযোগ্য জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ স্যারের নেতৃত্বে, নির্দেশনায় ও সার্বিক তত্বাবধানে আমি বরকল উপজেলায় সরকারের মানবিক ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নিঃসন্দেহে রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক স্যার একজন অত্যন্ত মানবিক ও দূরদর্শী কর্মকর্তা। স্যার নিজেই মধ্য রাতে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। স্যারের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি নিজেও ত্রাণ নিয়ে দুর্গম পাহাড়ের আনাচে কানাচে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে আমার দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার কোন অভাব নেই। প্রতিটি অনাহারী মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়াই এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’’ একই সাথে বরকল উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও গ্রামে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বলে জানান এই ইউএনও।
তাঁর মত একই সুর অন্যান্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মুখে। সকলেই এক বাক্যে জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদের দুরদর্শিতা আর জেলাবাসীর প্রতি তাঁর আন্তরিকতার কথা তুলে ধরেন।
রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা উপমা বলেন, ডিসি স্যার আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন আমরা ঠিক সেভাবেই কাজ করছি। হত দরিদ্র লোকজনদের কেউই যাতে ত্রান সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে সেজন্য কাজ করছি। তিনি বলেন, আমার উপজেলার প্রত্যেকটা ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে স্বচ্ছতার সাথেই ত্রান সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে। আমি সব ওয়ার্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ফোনে ফোনেও খবরাখবর রাখছি। যার কারণে ওয়ার্ড মেম্বাররাও সতর্কতার সাথে কাজ করছেন। স্বচ্ছতার সাথেই তালিকা করা হয়েছে, যাতে সাহায্য থেকে কোনো অভাবী লোকজন বাদ না পড়েন। তিনি জানান, মোট কথা ডিসি স্যার যেভাবে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন; সেভাবেই কাজ করছি। আশা করি এই সিস্টেমে কেউ ত্রান সহায়তা থেকে বাদ পড়ার কথা নয়। ত্রান সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতেও উপজেলা প্রশাসন কাজ করে চলেছে। বলা চলে উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সবাপরি এটা বললে অত্যুক্তি হবেনা-যেমন প্রশাসক তেমন তাঁর অধঃস্তন,যেনো যোগ্য ক্যাপ্টেনের টীমে একঝাকঁ যোগ্য টীমমেটও এরা।
