মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গায় মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে নুসরাত জাহান মুমু (১৬) নামের একজন কিশোরী মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেলছড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুসরাত জাহান মুমু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বাসিন্দা মো: কাউসার আলমের মেয়ে। সে তার মামা মাটিরাঙ্গার বেলছড়ির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মো: আবদুল্লাহ‘র বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো।
স্বজনরা জানান, নুসরাত জাহান মুমু তার মামা আব্দুল্লার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নুসরাত জাহান মামাতো বোনসহ ৫ জন সহপাঠী বাড়িরে পাশে গোমতি নদীতে গোসল করতে যায়। পাঁচ জন গোসল করতে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে নুসরাতসহ দুইজন গোমতি নদীর গভীর জলে ডুবে যায়। এসময় সাথে থাকা সহপাঠীদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এসময় প্রতিবেশীরা একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নুসরাত জাহানকে উদ্ধার করতে পারেনি।
খবর পেয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদল ঘটনাস্থলে ছুটে যান, পরে ডুবুরীদল ও স্থানীয়রা ঘন্টা ব্যাপী চেষ্টা করে নুসরাতকে উদ্ধার করে। পরে তাকে উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডা: পিপাসা বড়–য়া তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো: শফিকুল আলম খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৭ জনের একটি ডুবুরী দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টার নুসরাত জাহানকে গোমতি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে ঘটনার পরপরই মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম ও বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রহমত উল্ল্যাহ। এসময় তারা নিহতের স্বজনদের সমবেদনা জানান।
মামার বাড়িতে বেড়াতে আসা কিশোরী নুসরাত জাহানের মৃত্যুর ঘটনাটি মেনে নেয়ার মতো নয় জানিয়ে মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রহমত উল্যাহ বলেন, এঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পৈত্রিক বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আমজাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। এবিষয়ে স্বজনদের কোন অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
