ইয়াছিন রানা সোহেল
করোনায় যখন চারিদিকে নিস্তন্ধতা আর নীরবতা। ঠিক সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হ্রদে দখল শুরু করেছে এক শ্রেণির অসাধু দখলবাজ। কখনো কখনো প্রশাসনের নজরে পড়ে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মান করা হলেও অনেক স্থানের খবর প্রশাসনের কাছে না পৌঁছানোর কারণে তা অগোচরেই থেকে যায়। আর দখলদারও বেশ আয়েশেই হ্রদের অংশে স্থাপনা গেড়ে দখল করে। তেমনি এক দখলদার আবদুল সালাম। রাঙামাটি শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় হ্রদের উপর স্থাপনা গেড়ে দখল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর তা করা হয়েছে রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট কেরানী পাহাড়ের পাশে। এতে করে একদিকে যেমন দর্শনীয় এই স্পটে পর্যটক আনাগোনায় বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে দখল করা হয়েছে ইয়াং রাঙামাটি নামে একটি ক্লাবের নামে বন্দোবস্তিকৃত জায়গাও।
অভিযোগে জানা যায়, শহরের পুলিশ লাইনস্থ কেরানী পাহাড় সংলগ্ন খতিয়ানভুক্ত ইয়াং রাঙামাটি ক্লাবের জায়গা রয়েছে। পর্যটকদের আনাগোনার সুবিধার্থে ক্লাবের জায়গার পাশে কয়েক বছর আগে রাঙামাটি পৌরসভা এখানে একটি সিঁড়িও নির্মান করে। কিন্তু কয়েক মাস আগে এটি ভেঙ্গে পড়ে। করোনার কারণে যখন চারিদিকে নিস্তবতা, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল সালাম ওই স্থানে স্থাপনা নির্মান করে।
স্থানীয় লোকজন এবং পাশে থাকা ইয়াং রাঙামাটি ক্লাবের পক্ষ থেকে খতিয়ানভুক্ত ইয়াং রাঙামাটি ক্লাবের বন্দোবস্তি জায়গা দখল করার বিষয়টি জানিয়ে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করে। যার নং-৪৪৮, তাং-২৭/০৬/২০২১ইং। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার পর এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কোতয়ালী থানা পুলিশ এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
এ ব্যাপারে ইয়াং রাঙামাটি ক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, অবৈধ দখলদার আবদুল সালাম ইয়াং রাঙামাটি ক্লাবের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের কারণে পরিবেশের ক্ষতি সাধন হচ্ছে। কিছুদিন আগে এই জায়গায় কোন ঘরবাড়ি ছিলো না। বর্তমানে আমাদের ক্লাবের সামনের জায়গায় নতুন করে ঘর নির্মাণ করেছে তাও অবৈধ। তিনি যে জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছে তা ক্লাবের সামনের অংশ পুরোটাই ইয়াং রাঙামাটি ক্লাবের।
তিনি আরো বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে মানুষের চলাচলের জন্য ক্লাবের জায়গা কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে পৌর মেয়রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছিলেন পাশে যখন জায়গা কমে গেছে তা হলে সামনের দিকে এগুতে পারবেন। সাড়ে ১৭ ডিসিমেল জায়গা যতটুকু পড়বে পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্লাবকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে বলেছিলেন পৌর মেয়র। আর আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি এই ক্লাবটিকে কিছু করার জন্য কিন্তু করোনার কারণে আর হয়ে উঠেনি। আর করোনার কারণে মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ার ফাঁকে আব্দুল সালাম আমাদের জায়গায় ঘর তৈরী করছে। আর কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান ক্লাব সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কবির হোসেন জানান,অভিযোগ হয়ত করেছে কিন্তু আমার কাছে পৌছাঁয়নি। অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান তিনি।
