হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমার পবিবারকে ঘরবাড়ি ছাড়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। মন্টি চাকমার বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ১নং সাবেক্ষং ইউনিয়নের মরাচেঙ্গি এলাকার বেতছড়িমুখ গ্রামে।
এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ-গনতান্ত্রিককে দায়ী করেছে।
বিবৃতিতে সচল চাকমা অভিযোগ করেন, ‘নব্য মুখোশ বাহিনীর (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) সর্দার তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা মোবাইল ফোনে আজ ১২টার মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। চলে না গেলে তাদেরকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে বলে সে হুমকি দেয়।’
‘গত কাল শুক্রবার জিম্মি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমা ঢাকায় ১৯টি প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাত করে তাদের জিম্মি দশার চিত্র তুলে ধরার পর ক্ষুদ্ধ হয়ে বর্মা এই পদক্ষেপ নিয়েছে’ বলে বিবৃতি মন্তব্য করেন ইউপিডিএফের এ নেতা।
মন্টি চাকমার বড় ভাই সুভাষ চাকমা বলেন, ‘আজ সকালে (শনিবার) তারা ফোন করে আমাদের সবাইকে দুপুরে মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বলে। বাড়ি না ছাড়লো তারা আমাদের মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। আমরা এখন এলাকার বাহিরে চলে এসেছি। প্রাণভয়ের মধ্যে দিয়েও মা-বাবা বাড়িতে অবস্থান করছে।’
তবে এই ইউপিডিএফ নেতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ইউপিডিএফ-গনতান্ত্রিক নেতা তপনজ্যোতি চাকমা বর্মা উল্টো অভিযোগ করেন,গত ২২ এপ্রিল মন্টি চাকমার মা আমাকে ফোন করে কেঁদে কেঁদে জানিয়েছে,ইউপিডিএফ এর ১২ জন সশস্ত্র ক্যাডার এসে তার মেয়ে মন্টি চাকমাকে তুলে নিয়ে গেছে। এখন তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের জিম্মায় বসে সে(মন্টি) কি বলছে,সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়,বিশ^াসযোগ্যও নয়। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন,এসব আমাদের বিরুদ্ধে ইউপিডিএফ এর ষড়যন্ত্র ও নোংরা রাজনীতি।’
নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, ‘আমরা এ ধরণের কোন খবর পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।’
উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির কুতুকছড়ির এলাকায় হামলা চালিয়ে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙামাটি শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়াসোনা চাকমাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের ঘটনার পর থেকে ইউপিডিএফ-গনতান্ত্রিককে দায়ী করে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করেছে প্রসীত বিকাশ খীসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ। এর মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মধুপুর এপিবিএন এলাকায় অপহরণকারীদের কাছ থেকে মুক্তি পায় দুই নেত্রী।
