সম্প্রতি বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে একটি দর্শনীয় গোল করে ফিফার সেরা দর্শক জরিপে ৫ গোলের মধ্যে একটিতে নিজের স্থান কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশের নারী ফুটবলার মনিকা চাকমা (১৬)। এই গোলের কারণেই মনিকা চাকমাকে ‘ম্যাজিকেল চাকমা’ খেতাব দিয়েছে ফিফা। এই মনিকা মুগ্ধ করেছেন ক্রীড়ামোদী মানুষকে। বিশ্বের কাছের তুলে ধরেছে নিজের দেশকে।
মনিকা চাকমা বেড়ে উঠেছেন রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়ায়। ছোট বেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট মনিকা ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে জাতীয় দলে ডাক পায়। এখনও মনিকার অনেক সহপাঠী ঘাগড়া বিদ্যালয়ের মাঠেই খেলছেন। তারাও দেশের জার্সি পড়ে খেলতে চায় দেশ-বিদেশে। মনিকাদের চেয়েও আরও ভালো করতে চায় তারা।

মনিকার সাথে একইসাথে খেলতো মানুচিং মারমা (১৭)। ডিফেন্ডার খেলোয়াড় মানুচিং জানায়, মনিকারা ভালো ফুটবল খেলে। দেশের বাহিরে গিয়ে খেলেন। তার সাথে আমাদের খেলতে অনেক ভালো লাগে। তার সাথে খেলার সময় সে আমাদের খেলার বিভিন্ন বিষয়ে শিখিয়ে দেন। তার সাথে খেললে আমাদের অনেক কিছুই শেখা-অর্জন করা জানা যায়। আমরা কোনো ধরণের ভুল করলে সে সেটা শিখিয়ে দেন। তাই আমরাও বড় হয়ে মনিকাদের মতো হতে চাই।
একই সাথে অনুশীলন করেন নমমিতা চাকমা (১২)। নমমিতা চাকমা বলেন, আমরা এই স্কুলে পড়াশোনা করছি, শুরু থেকেই এখানে ফুটবল খেলছি। আমিও বড় হয়ে মনিকা আপুদের মতো দেশের জার্সি মতো পড়ে দেশ-বিদেশে খেলতে চাই। মনিকা আপুরা যখন এখানে থাকেন; তখন তিনি আমাদের বিভিন্ন বিষয় শিখিয়ে দেন। বল পুশ-পাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন পজিশনে থাকা ইত্যাদি। আমিও একদিন মনিকা, অ্যানাই, রূপনার মতো হতে চাই।
স্ট্রাইকার খেলোয়াড় মালমি চাকমা (১৭) জানায়, সে কেবল মনিকাদের মতো নয়, তাদের চেয়ে আরও ভালো প্লেয়ার হতে চায়। কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের মতো তাদের সে অনুযায়ী সরঞ্জামাদি নেই। তারা ভালো সাপোর্ট পেলে আরও ভালো ভাবেই অনুশীলন করতে পারতো।

মনিকা চাকমা জানায়, ২০১২ সালে সে প্রথম অনুর্ধ্ব ১৪ খেলতে পারে, দেশের জার্সি পরে খেলতে পেরে তার তখনই প্রথম ভালো লেগেছে। এখন ফিফার ৫টি সেরা গোলের মধ্যে একটি গোল তার হয়ে এই বিষয়টাও অনেক ভালো লেগেছে তার। বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পেরে প্রথমবারের মতো ফিফার রেংকিংয়ে মনিকার গোল স্থান পেয়ে সে খুব গর্বিত। মনিকা আশাবাদি ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করে সে দেশকে বিশ্বের কাছে আরও উজ্জ্বল করতে পারবে।
মনিকা মনে করেন, তাদের সূতিকাগার যেখান থেকেই সেখানে আরও ভালো ভাবে নজর দিলে সে (ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়) থেকেই আরও ভালো প্লেয়ার জাতীয় দলে যেতো পারবে। তারা আরও ভালো করবে। এখন তাদের বিদ্যালয় থেকেই ৫জন জাতীয় দলে খেললেও ভবিষ্যতে আরও অনেকেই খেলবে। সে জন্য তাদের আরও হার্ডওয়ার্ক করতে হবে।
ঘাগড়া বিদ্যালয়ের ফুটবলারদের কোচ শান্তিমনি চাকমা জানান, এই মনিকাদের নিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমাদের এখানে ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন ধরণের সংকট রয়েছে। একটা খেলোয়াড় যেভাবে গড়ে উঠে, সেভাবে আমাদের খেলোয়াড়রা সুযোগ সুবিধা পায় না। তারপরও হাটি হাটি পায়ে পায়ে তারা এতদূর এসেছে। এখন টিভির পর্দায় তাদের দেখে আমাদের এত যে আনন্দ লাগে, তা বলে বুঝাতে পারবো না। আমি মনে করি, অ্যানাই, আনুচিং, ঋতুপর্ণা, রূপনা, মনিকাদের চেয়েও এখান থেকেই আরও ভালো খেলোয়াড় উঠে আসবে যদি আরও হার্ডওয়ার্ক করা যায়।