‘গোলাগুলিতে’ রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘আরামান আর্মির’ ৭ সদস্য নিহত হয়েছেন এমন খবরে পুরো দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে গতকাল বুধবার। এদিন দুপুরের পর থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি গণমাধ্যমে দুই সন্ত্রাসী দলের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ নিহতের সংবাদ ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচারের পর এ তোলপাড় শুরু হয়।
জাতীয় ও আন্তর্জান্তিক গণমাধ্যমগুলো তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সংবাদটি নিশ্চিত করার জন্য তাগাদা দিলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা নিজস্ব সূত্র, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে দফায়-দফায় যোগাযোগ করেও খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। বরং জেলার প্রধান সরকারি কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পুরো ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা’, ‘ভূয়া’ ও ‘অপপ্রচার’ বলে জানিয়েছেন সংবাদকর্মীদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবেই বিষয়টি সর্ম্পকে সঠিক তথ্য জানানো হলেও খবরের সূত্রে ততক্ষণে ‘গুজব’ ছড়িয়ে গেছে দেশজুড়ে।
প্রথমেই জাতীয় দুইটি গণমাধ্যমে নিউজটি প্রচারের পর বেশ কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যম রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শেখ সাদেকের উদ্ধৃতি দিয়ে নিহতের সংখ্যা উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্যটি সঠিক ছিল না বলে পরে দাবি করেন উপজেলার এই প্রধান কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গণমাধ্যমের চট্টগ্রামের এক প্রতিনিধি আমার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে আমি তাকে বলেছি, আমিও বিষয়টি শুনেছি। তবে লাশের বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু তিনি আমার বক্তব্যটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করেননি। আমি ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।’
এদিকে দুপুরে পর থেকেই ঘটনার সত্যতা জানতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাথে কথা হয়। ২নং গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উথান মারমা জানান, ‘আমি সকালে আমার ইউনিয়নে গোলাগুলি হতাহতের খবর পাই। পরে খবর নিয়ে দেখি, কোন হতাহত কিংবা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ মিথ্যা।’
রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান উবাচ মারমা জানিয়েছেন, ‘লোকমুখে আমিও ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি।’
বিকেলেই গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এসএম শফি কামালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটিকে ‘গুজব’ বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ‘গোলাগুলির কথা শুনে স্থানীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনও আলামত খুঁজে পায়নি। তাই বিষয়টিকে আমরা গুজব বলেই ধারণা করছি।’
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির জানিয়েছেন, আমরা খবর শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজেও কারো লাশ পাইনি। ঘটনাটি ‘গুজব’ ও ‘অপপ্রচার’ বলে জানান তিনি।