সাইফুল হাসান
রাঙামাটিতে থেমে থেমে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) থেকে রবিবার (১৯ জুন) পর্যন্ত সারা দেশের মত পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও ভারী বর্ষণ হচ্ছে। এতে পাহাড় ধসের সম্ভবনা রয়েছে বলেও জানান স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত করা হচ্ছে সতেচনতা মাইকিং। কিন্তু এত আশঙ্কার পরেও আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে নারাজ বেশির ভাগ মানুষ।
ঘরে ঘরে গিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আহ্বান করছেন জেলা প্রশাসনের টিম। এই টিমে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ছাড়াও কাজ করছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, ফায়ার ব্রিগ্রেড, রেডক্রিসেন্ট, স্কাউট সহ স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন। এদিকে শহরের পাবলিক হেল্থ ও ভেদভেদীর কয়েকটি স্থানে ছোটখাটো পাহাড় ধস হলেও কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
রবিবার (১৯ জুন) শহরের পাবলিক হেল্থ, শিমুলতলী, রূপনগর, লোকনাথ মন্দির, ভেদভেদি মুসলিম পাড়ায় ঘুরে দেখা যায় বেশির ভাগ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকায় নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। কেউ কেউ অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বলে আশঙ্কা করাই আশ্রয় কেন্দ্রে গেলেও বেশির ভাগ মানুষ যেতে রাজি নন। এদিকে আবার অনেকই দিনের বেলায় নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করলেও রাতের বেলায় পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকছেন।
ভেদভেদি মুসলিম পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, ‘পাহাড় ভাইঙ্গা কই পড়বো। আমি ঘর ভিটা ছাইড়া যামু না। ভাইঙ্গা পড়লে তখন দেখা যাইবোনি।’
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার মিয়া বলেন, আমার পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আছে। আমি দিনের বেলায় বাসার আশপাশে থাকি আবার রাতের বেলা আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যায়। গত ২০১৭ সালের পাহাড় ধসে আমি আমার ভাইকে হারাই, তাই বৃষ্টি হলে ভয় হয় যদি আবার পাহাড় ধসে পড়ে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রাঙামাটিতে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড় ধসের সম্ভবনা রয়েছে। তাই আমরা সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। শহরের ৯টি ওয়ার্ডে ২০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে রয়েছে। তারা চেষ্টা করছে মানুষকে সচেতন করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসতে।
প্রসঙ্গত, রাঙামাটিতে ২০১৭ সালে পাহাড় ধসে ১২০ এবং ২০১৮ সালে ১১ জনের মৃত্যু হয় ।
