২৯৯নং রাঙামাটি আসনের স্বতন্ত্র ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সমর্থিত প্রার্থী উষাতন তালুকদার বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্যালেটের মাধ্যমে চুক্তি বিরোধী রাজনৈতিক দালাল ও প্রতিক্রিয়াশীলদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করার সময় এসেছে।’ শনিবার বিকালে রাঙামাটি শহরের কল্যাণপুর এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্দব্য করেন।
ঊষাতন বলেছেন, ‘আমি বিগত ৫ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নসহ এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষা ও সুষম উন্নয়নে যথাসাধ্য জোরালো ভূমিকা পালন করতে পিছু হইনি। দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখতে আমাকে সিংহ মাকার্য় আপনাদের মূল্যবান ভোটার প্রদানে আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে শাসকগোষ্ঠীর অব্যাহত গড়িমসির সুযোগে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর ইন্ধনে প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িক উস্কানি, হামলা, অগ্নিসংযোগ, নারীর ওপর সহিংসতা, ভূমি বিরোধ, হত্যা-অপহরণ, চাঁদাবাজির ঘটনা পার্বত্য জনজীবনে নিত্যনৈমিক্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িযেছে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর স্থানীয় নেতৃত্ব তাদের অগণতান্ত্রিক ও সংকীর্ণ দলীয় নীতির কারণে ও সর্বোপরি একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার বশবর্তী হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার যথাযথ সমাধান দৃঢ় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা অব্যাহত চুক্তি বিরোধী ও জনমুখী, পরিবেশ-বান্ধন উন্নয়ন পরিপন্থি ভূমিকা পালন করে আসছেন। ’
এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে উষাতন বলেন, ‘এখনও এখানে নির্বাচন করার পরিবেশ আছে। তবে সরকার দলীয় প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তারা যেন সতর্ক থাকে আমি আপনাদের মাধ্যমে এই আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কড়কড়ে টাকা দিতে পারি না। তবে মানুষের কথা শুনি, সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকি। আমাদের রাজনীতি নিজের আগের গোছানোর জন্য নয়। জনসংহতি সমিতি কোনও ধরণের বৈধ বা অবৈধ অস্ত্রবাজি করে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে পার্বত্যবাসীকে সঙ্গে নিয়েই গনতান্ত্রিক উপায়ে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীন হতে চায় না। আমরা আমাদের ভূমি অধিকার-সংস্কৃতির অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’
