রাঙামাটিতে এক শ্রমিকলীগ নেতার বিরুদ্ধে আপন বোনের জমি ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন তারই দুই আপন ভাই বোন। শুধু তাই নয়, নায্য পাওয়া চাওয়ার তাদের মারধর করা হয়েছে জানিয়ে রাঙামাটির কোতয়ালি থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেছেন বোন মনি সেন।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই শ্রমিক নেতা সমীর দত্ত রাঙামাটি পৌর শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা শ্রমিকলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক। তারই আপন সহদর গৌতম দত্ত ও মনি সেন তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তির বোনের অংশ আত্মসাৎ,জমি বিক্রির টাকা না দেয়া এবং পাওয়া চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ এনে ২৬ মে কোতয়ালি থানায় সাধারন ডায়রি করেছেন ( যার সং-৩১৯,তারিখ-২৬/-০৫-২০১৯)।
থানায় করা সাধারর ডায়রিতে মনি সেন সমীর দত্ত, তার স্ত্রী সুক্লা দত্ত এবং পুত্র রাহুল দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ ২৬ মে সন্ধ্যা সাতটার সময় বিবাদীগণ আমাকে মারধর করে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘২১/০৫/২০১৯ তারিখে আমার মায়ের দেওয়া জায়গাটি বিবাদীগণের কথায় সরল বিশ্বাসে ক্রেতা খোকন বড়–য়ার নিকট বিক্রি করি।বিবাদীগণ আমার নিকট হতে জায়গা বিক্রয় করার বিষয়ে নিয়ে ডিপিএস হতে নেওয়া ৪২ হাজার টাকা নেয়। আরো উল্লেখ্য যে,আমার মায়ের দেওয়া জায়গাটি ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রয় করা হলেও আমাকে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে আরেকটি জায়গা ক্রয় করে দেয়। বাকী টাকা এক নং আসামী (সমীর দত্ত) তার কাছে জমা রাখে। আমি সরল বিশ্বাসে অবশিষ্ট ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা এবং ডিপিএস এর ৭০ হাজার টাকা,মোট ৩ লক্ষ ১২ হাজার টাকা সমীর দত্তের নিকট গচ্ছিত রাখি। আমার ক্রয়কৃত জায়গাটিও তার দখলে আছে। আমি আমার টাকা ও জায়গা বুঝিয়া দিলে বললে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। বিষয়টি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আইনের শরনাপন্ন হয়েছেন জানিয়ে মনি সেন দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামকে বলেন, ‘আমি ন্যায় বিচার চাই এবং আমার জায়গা ও টাকা ফেরত চাই। সে আপন মায়ের পেটের ভাই হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার জায়গা জবরদখল করেছে। আমি আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে এর বিচার চাই। আমি দীপংকর তালুকদার মহোদয়ের কাছেও গিয়েছি তাকে আমার দু:খের বিষয়টি জানাতে। সেই আপন ভাই হয়েও আমার হাতের শাখা ভেঙ্গে দিয়েছে। আমি তার বিচার চাই।’
মনি সেন এর আরেক ভাই গৌতম দত্তও বোনের সাথে সংহতি জানিয়ে বলেছেন, ‘ আমার ভাই সমীর দত্ত আমার বোনের নায্য পাওনা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। আমি আমার বোনের পক্ষে কথা বলতে গেলে সে ও তার পুত্র আমাকেও লাঞ্চিত করে এবং আমাকে গুম করার হুমকি দিয়েছে।’ গৌতম দত্ত অভিযোগ করেছেন, তাকে এবং তার বোনকে মারধর করে সমীর দত্ত উল্টো অভিনয় করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছে।’
এই বিষয়ে জানার জন্য সমীর দত্তের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘মনি সেন এবং গৌতম দত্ত আমার আপন ভাই বোন ছিলো,তবে এখন নেই। কারণ আমি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছি। আমি তাদের উপর কোন হামলাই করিনি বরং গৌতম দত্ত আমার উপর হামলা করেছে।’ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন,যেহেতু আমি জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক,সেহেতু আমার উপর হামলার খবর পেয়ে সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী এসেছিলো,তার হৈচৈ করছিলো, আমি তাদের বিষয়টি পারিবারিক বলে সড়িয়ে দিয়েছে।’ তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাঙামাটি জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক শামসুল আলম জানিয়েছেন, এটা নিতান্তই তাদের পারিবারিক বিষয়,এই ঘটনার সাথে শ্রমিকলীগের ন্যুনতম সম্পর্ক নেই। শ্রমিকলীগ কারো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয়ে মাথা ঘামায় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে যদ্দুর শুনেছি, সমীর দত্তের ছোট ভাই গৌতম দত্ত রবিবার তাদের সামাজিক একটি বিচারে বড়ভাইয়ের উপর হামলা করার পর স্থানীয় দোকানিরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং ভর্তি করে।’ আমি একটা কথা স্পষ্ট বলতে চাই, কারো ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধের দায় আমাদের সংগঠন নিবে না।’
