রাঙামাটিতে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানের সরিয়ে নিতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার রাতে রাঙামাটি শহরের শিমুলতলী, যুব উন্নয়ন এলাকা, রূপনগর, সনাতন পাড়া এলাকায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মামুনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্বোচ্ছাসেবকরা।
গত শুক্রবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড় ধসের অশঙ্কা থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানের আসার জন্য আহবান জানানো হয়। অভিযানের সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়।
রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যাবেক্ষন কেন্দ্রের সিনিয়ন পর্যবেক্ষক কেচিনু মারমা জানান, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘন্টায় ৪১.১২ মিঃলিঃ মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে এসেছেন তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে যারা এখনও সরে আসননি তাদেরকে নিরাপদ স্থানের সরে আসার জন্য বিভিন্নভাবে উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বোঝাচ্ছেন। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আইন অনুযায়ী তাদেরকে সরে আসার জন্য আমরা বাধ্যও করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, যদি বোঝানোর পরও তারা যদি সরে না আসে তাহলে আমরা আইন প্রয়োগ করব। পৌর এলাকায় ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রস্তুত রাখা রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে পৌর এলাকায় ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসহ পুরো জেলায় ঝুঁকিতে বসবাস করছে প্রায় পনের হাজার পরিবার। টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে গত ২০১৭ সালে ১২০ জন ও ২০১৮ সালে ১১ জনের মৃত্যু হয়।
