প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, গত ১৩জুন ভয়াবহ ভুমিধস ও এরপর বন্যায় এ জেলার বসবাসরত মানুষের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। এখন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের পাশে দাড়াঁনোর সময়। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থদের কল্যানে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার সকালে রাঙামাটির দূর্গম বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ভুমি ধ্বস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রান বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও দূর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য জয়সেন তংচঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি উপজেলার ৩নং ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তংচঙ্গ্যা, সহ-সভাপতি রাসেল মারমা, সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম’সহ বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের সহযোগিতা না করে একটি মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা রকম মন্তব্য ছড়াচ্ছে। তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্যবাসীর প্রতি খুবই আন্তরিক। তাই তিনি দুর্যোগের পর পরই আশ্রয়কেন্দ্র থাকা পরিবারদের খাবার, মৃত ব্যাক্তির দাফন কাফন ও সৎকাজ সম্পন্ন করার জন্য মৃত ব্যাক্তির পরিবারদের নগদ অর্থ জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রদান করেছেন এবং আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নের্তৃবৃন্দরা যে যার সাধ্যমতো ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের সহযোগিতায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করেছেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা দূযোর্গের পর পরই ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের পূর্নবাসনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নে যোগাযোগ মন্ত্রী এবারে ঈদ উদযাপিত না করে সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে রাঙ্গামাটির এসেছেন। এরপরও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন বর্তমান সরকার তাই করবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগেও পার্বত্যবাসীর প্রতি আন্তরিক ছিল বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
ত্রান বিতরনের আগে সকালে বিলাইছড়িতে ভুমিধ্বস ও বণ্যায় বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও অন্যান্য অতিথিরা।
পরে বিলাইছড়ি উপজেলার সদর বোট ঘাট, কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, কেংড়াছড়ি বোট ঘাট ও ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে প্রায় ৫শত পরিবারদের মাঝে খাদ্যশষ্য ও ফলজ চারা বিতরন করা হয়।
